পুরোনো মন্তব্য টেনে নাসিরুদ্দিনকে কঙ্গনার কটাক্ষ

গত মাসে দিল্লিতে ছাত্রদের আন্দোলনে বলিউডের অনেক তারকা সমর্থন জানান। আবার কেউ কেউ এর বিরুদ্ধেও ছিলেন। সে সময় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ছাত্রদের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

প্রথম সারির যে তারকারা ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেননি তাদের প্রসঙ্গে অভিনেতা সে সময় বলেন, ‘‘তাদের বিবেক যখন বলবে, তখন তারা করবে। একটি প্রবাদ আছে—মুখে হাড় থাকলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করতে পারে না।”

তবে এর মধ্যে ভারতের ঝাড়খণ্ডে আবারও ছাত্রদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। কিন্তু এ আন্দোলনে অভিনেতা চুপ আছেন। এ নিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ-এর সে সময়ের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ঝাড়খণ্ডে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে প্রবীণ অভিনেতা নীরব কেন।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কঙ্গনা অভিনেতা পীযূষ মিশ্রের একটি মন্তব্য শেয়ার করেন। সেখানে নাসিরুদ্দিনের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ঝাড়খণ্ডে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে অভিনেতার নীরবতার প্রশ্ন তোলেন।

এর সঙ্গে নিজের মন্তব্য যোগ করে কঙ্গনা লেখেন, ‘‘সত্যি হলো, প্রত্যেকেই কোনও না কোনোভাবে কারও না কারও ‘কুকুর’। তবে আমি গর্বিত যে, যে ঘরের (দেশের) রুটি খাই, সেই ঘরকেই পাহারা দিই এবং তার জন্য লড়াই করি। নাসির সাহেব এই দেশের রুটি খান, কিন্তু লড়াই করেন প্রতিবেশী দেশের জন্য।’’

এরপর কঙ্গনা আরও লেখেন, ‘‘আজকের সময়ে কুকুর বলা একটি প্রশংসা, কারণ আনুগত্য ও মিষ্টতা খুবই বিরল। নাসিরুদ্দিনের মতো শিয়াল হওয়ার চেয়ে আমি বরং কুকুর হওয়াকেই পছন্দ করবো।”

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিজেপির কয়েকজন সাংসদ অভিযোগ করেন, চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড সরকারের কথিত পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী হয় ‘দোষী’, নয়তো ‘অক্ষম’।

কঙ্গনাও শিক্ষার্থীদের ওপর কথিত পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে জবাব দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রথমেই ঝাড়খণ্ডে কী ঘটছে, তা দেখুন। শিশুদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তাদের অত্যন্ত নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। তাদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা এর জবাব চাইছি।’’

সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভার কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও চার পুলিশ সদস্য আহত হন। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে।