‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ থেকে ‘নিন্দার কাঁটা’—ফরিদা পারভীনের ১০ গান

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর), লালনকন্যা-খ্যাত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভোগার পর ২০২৫ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্ম ফরিদা পারভীনের। জন্ম নাটোরে হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা কুষ্টিয়ায়। আর শৈশবেই তৈরি হয় সংগীতের সঙ্গে তাঁর সখ্য।

মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে গানের হাতেখড়ি তাঁর। ১৯৬৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে শুরু হয় পেশাদার সংগীতজীবন। শুরুতে নজরুলগীতি ও দেশাত্মবোধক গান গাইলেও পরে লালন সাঁইয়ের গানই হয়ে ওঠে তাঁর সংগীতজীবনের প্রধান পরিচয়।

স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় থাকার সময় পারিবারিক বন্ধু গুরু মোকছেদ আলী সাঁইয়ের সংস্পর্শে আসেন ফরিদা পারভীন। ১৯৭৩ সালে তাঁর কাছেই ‘সত্য বল সুপথে চল’ গানটি শেখার মধ্য দিয়ে শুরু হয় লালন সাঁইজির গানের সঙ্গে ফরিদা পারভীনের গভীর আত্মিক সম্পর্ক।

এরপর লালনের গান ও দর্শনকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পান তিনি। লালনের দর্শন ও গানকে তিনি তুলে ধরেছেন বিশ্বমঞ্চে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন ফরিদা পারভীন। চলচ্চিত্রেও ছিল তার উল্লেখযোগ্য অবদান। ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ ছবির গানের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পরে ২০০৮ সালে জাপান সরকারের সম্মানজনক ‘ফুকুওকা এশিয়ান কালচার প্রাইজে’ ভূষিত হন তিনি।

ফরিদা পারভীন কেবল গান গাইতেন না, গানের গভীর দর্শনকেও নিজের ভেতরে অনুভব করতেন। কণ্ঠের নিখাদ সততাই ছিল তাঁর মূল শক্তি। সেই কণ্ঠই তাঁর গানকে শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে জায়গা করে দিয়েছে।

বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে তাই ফরিদা পারভীন এক আবেগের নাম। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক কিংবদন্তি এই শিল্পীর কণ্ঠের ১০ জনপ্রিয় গান—

১. খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
২. বাড়ির কাছে আরশিনগর
৩. মিলন হবে কত দিনে
৪. সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে
৫. মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার
৬. পাখি কখন জানি উড়ে যায়
৭. তোমরা তো ভুলেই গেছ
৮. সত্য বলো সুপথে চলো
৯. ধন্য ধন্য বলি তারে
১০. নিন্দার কাঁটা যদি না লাগিল গায়ে