এমন মন্তব্যের পর তারই অগ্রজ একজন শিল্পীকে ফোন দেওয়া ‘ঠিক’ সেই তথ্যটা নেওয়ার জন্য। তবে তিনি যে তথ্য দিলেন, তা তো চমকে ওঠার মতোই। অগ্রজ জানালেন, তিন বছর বয়স থেকে মঞ্চে গাওয়া ঐ অনুজ শিল্পীর!
‘আমি যখন মঞ্চে গাইতাম তখন পাশে বসে থাকত সে। আমার গান শেষ করে বলতাম এবার গাইবে ছোট্ট শিল্পী। তখন সে গাইত। শুধু তাই নয়। সেই অল্প বয়স থেকেই সে অন্য শিল্পীদের গানের অভিব্যক্তি নকল করতে পারত। এবং তা করে দেখাত। আমরা তো হেসেই লুটোপুটি খেতাম তার এসব কাণ্ড দেখে।’
উপরের দুই মন্তব্য দুই শিল্পীর। একজন পূর্বসূরি, অন্যজন উত্তরসূরি। এবার পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক। প্রথম মন্তব্যটি নাজিয়া তমার। যিনি নজরুল গানের বরেণ্য শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরার কন্যা।
দ্বিতীয় মন্তব্যটা করেছেন ফাতেমা নিজেই।
মায়ের মতো তমা নিজেও একই পথের যাত্রী। এই শিল্পীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘প্রথম প্রদীপ জ্বালো’ নিয়ে। নজরুলের গান দিয়ে সাজানো অ্যালবামটি গত ২৫ মার্চ বাজারে আসে।
আটটি গান থাকছে এই সংকলনে। প্রকাশ করছে জি-সিরিজ।
এই প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন ফাতেমা তুজ জোহরা। আর সংগীতায়োজন করেছেন বিনোদ রায়।
গানের হাতেখড়ি মায়ের কাছে হলেও শিক্ষকদের কাছেই তালিম নিতে সবসময় তাগাদা দিয়েছেন মা। তার প্রথম গুরু ড. কৃষ্ণপদ মণ্ডল। এরপর ছায়ানটে তিনি নজরুল সংগীতবিষয়ক ৬ বছরের ডিগ্রি শেষ করেছে। তার সংগীতগুরুদের মধ্যে অন্যতম অসীত দে। এছাড়া বেঙ্গলের পরম্পরার শিক্ষার্থী তিনি। উচ্চাঙ্গসংগীতও শিখেছেন অনেক দিন।
তমা পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখান থেকে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগে স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। গানের পাশাপাশি ছবি আঁকেন, ডিজাইনিংয়েও আছে তার ঝোঁক।
তবে জানালেন, নজরুলের গানের প্রতি তার নিখাদ ভালোবাসার কথা।
আর গানে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মা। তার কথা এখনও মেনে চলেন তমা আর এভাবেই এগিয়ে যেতে চান। ‘‘মা সবসময় কোনটা ‘ভালো-মন্দ’ এগুলো দ্রুতই বলে দেন। আবার আমার কোনও মন্তব্য বেশ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এটা বেশ ভালো লাগে। আগামী দিনগুলোতে হয়তো নতুন এ অ্যালবামের মতো আরও ভালো কিছু হবে।'’
ও, হ্যাঁ, অ্যালবামে ফাতেমা তুজ জোহরা ও তমার একটি দ্বৈত গানও থাকছে। অ্যালবামে স্বনামের গানই এটি- ‘প্রথম প্রদীপ জ্বালো’।
/এম/এমএম/