‘পেইড’ রিভিউ দেখে ‘টক্সিক’ সিনেমা বিচার না করার আহ্বান জানালেন ব্রিটিশ অভিনেতা বেনেডিক্ট গ্যারেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘টক্সিক’-এ তার অভিনীত দৃশ্যের ছবি পোস্ট করে তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘অন্যের নেতিবাচক রিভিউ দেখে সিনেমাটি বিচার না করতে।’
গীতু মোহনদাস পরিচালিত কন্নড় সিনেমা ‘টক্সিক: অ্যা ফেইরি টেল ফর গ্রোন-আপস’ মুক্তির পর থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছে।
গত ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। তবে নেতিবাচক সমালোচনায় থেমে নেই ছবিটির বক্স অফিস যাত্রা। বড় বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০ কোটি রুপি আয় করেছে।
এ সিনেমাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা বেনেডিক্ট গ্যারেট।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যা বা ত্রুটি হতেই পারে। অন্যদের নেতিবাচক রিভিউ দেখে কোনও সিনেমাকে বিচার করার ভুল করবেন না—সেটি সত্যিকারের রিভিউ হোক কিংবা পেইড। আপনাদের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি আছে, তাই না? সেটি ব্যবহার করুন।’
বেনেডিক্ট গ্যারেটআরও বলেন, ‘মনে রাখবেন, টক্সিক প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি রূপকথা। সিনেমাটি এখনও প্রেক্ষাগৃহে চলছে।’
এর আগে সিনেমাটি মুক্তির সময়ও ‘টক্সিক’-এর প্রশংসা করেছিলেন বেনেডিক্ট। তিনি জানিয়েছিলেন, সিনেমাটি তার এতটা ভালো লাগবে, তা তিনি ভাবেননি। ছবিতে অভিনয় করলেও গল্প সম্পর্কে খুব বেশি কিছু না জেনেই প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকি অ্যাকশন সিনেমার বিশেষ ভক্ত না হওয়া সত্ত্বেও ‘টক্সিক’ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
অভিনেতার মতে, ‘টক্সিক’ শুধু সহিংসতা, রক্তপাত, যৌনতা কিংবা বড় পর্দার জাঁকজমক নিয়ে তৈরি সিনেমা নয়। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি অন্ধকার ও বিশৃঙ্খল রূপকথা। একই সঙ্গে আমরা যে বিষাক্ত পৃথিবী উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি এবং ট্রমা, সামাজিক প্রভাব, ক্ষমতা, ধর্ম, ঔপনিবেশিকতা ও সমাজ কীভাবে মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে—সিনেমাটিতে তারই প্রতিফলন রয়েছে।
তবে সিনেমাটি ‘সবার জন্য নয়’ বলেও স্বীকার করেছেন বেনেডিক্ট। তার ভাষায়, সম্ভবত এ কারণেই গীতু মোহনদাসের সিনেমাটি তার এত ভালো লেগেছে। নির্মাতা দর্শক যা আগে থেকেই দেখতে চান, সেভাবে সিনেমাটি বানাননি। বরং তিনি তৈরি করেছেন চ্যালেঞ্জিং, ব্যতিক্রমী এবং নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার মতো একটি গল্প।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’-এর সহ-চিত্রনাট্য লিখেছেন ইয়াশ। এতে ইয়াশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত।