জনসচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নিতে তারকারা মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দাবি করছেন—বোম্বে হাইকোর্টের এমন মন্তব্যের পর মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। তার দাবি, জনস্বার্থে পরিচালিত কোনও প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি কখনও পারিশ্রমিক নেননি।
‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিয়া জানান, জনস্বার্থে পরিচালিত কোনও প্রচারাভিযানের জন্য তিনি কখনও কোনও টাকা নেননি। কে কত মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক পেয়েছেন, সে সম্পর্কেও তার কোনও ধারণা নেই।
দিয়া মির্জা বলেন, ‘দূষণের মতো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব এবং এ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হলে তারকারা নাগরিক সমাজ ও সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। প্রতিবার আমরা বাজি পোড়ানোর বিরুদ্ধে কথা বললেই আক্রমণের শিকার হই।’
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বায়ুদূষণ কমানোর পক্ষে কাজ করছেন দিয়া। নিজের সেই উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দূষণ এবং এর সমাধানের দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হয়। আমার ইনস্টাগ্রাম স্ট্যাটাস দেখলে প্রতিদিনের বায়ুর গুণমান সূচক (একিউআই) সংক্রান্ত আপডেট দেখতে পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগকে একত্রিত করা ও সহায়তা দেওয়ার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)। আমিও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। সমস্যা হলো, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে এবং তারা একসঙ্গে কাজ করে না।’
জনসচেতনতামূলক প্রচারে তারকাদের পারিশ্রমিক নিয়ে কী বলল আদালত
দিয়ার এই প্রতিক্রিয়া এসেছে বোম্বে হাইকোর্টের এমন মন্তব্যের পর। আদালত বলেছে, জনসচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নেওয়ার জন্য তারকাদের সরকারি অর্থ থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত নয়।
সোমবার মুম্বাইয়ের ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ এবং নবরাত্রির সময় বাজি পোড়ানোর বিষয়টি নিয়ে শুনানির সময় বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি মন্তব্য করেন, তারকারা যদি বিনা পারিশ্রমিকে এগিয়ে আসতে রাজি না হন, তাহলে তাদের কাছে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, ‘তারকারা যদি পারিশ্রমিক দাবি করেন, তাহলে তা সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি। তারা এই শহরে বসবাস করেছেন এবং শহরটির কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছেন। শহরটির প্রতি যদি তাদের আপনত্বের অনুভূতি থাকে, তাহলে শহরকে কিছু ফিরিয়ে দিতে তাদের এগিয়ে আসা উচিত। এ কাজে সরকারি অর্থ অপচয় করবেন না।’
প্রয়োজনে মারাঠি অভিনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দিয়েছে আদালতের বেঞ্চ। বিচারপতিদের মতে, মারাঠি অভিনেতারা পারিশ্রমিক ছাড়াই এ ধরনের প্রচারাভিযানে অংশ নিতে সম্মত হন।