আরিফিন শুভ, নিজের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন বেশ কিছু সিনেমায়। এমনকি অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার সিনেমাতেও। এবারের ঈদেও আসতে চলেছে তার নতুন সিনেমা ‘নীলচক্র। তাছাড়া, সম্প্রতি সনি লিভের ‘জ্যাজ সিটি’ শিরোনামের একটি বলিউড প্রজেক্টে কাজ করেছেন তিনি।
তবে শুভ বোধহয় ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমার জন্যই বেশি আলোচনায় থেকেছেন। বলা যায় এখনও আছেন।
৫ আগস্টের পর শুভকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শেখ মুজিবের চরিত্রে অভিনয়, উক্ত সিনেমায় এক টাকা পারিশ্রমিক নেওয়া, তার নামে বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল, সব মিলিয়ে শুভ ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
শুভ জানিয়েছেন, তিনি একজন অভিনেতা। অভিনেতার কাজ অভিনয় করা এবং যেকোনও চরিত্রকে যথাযথভাবে পর্দায় তুলে আনা। তিনি সেটিই করেছেন। শেখ মুজিবের চরিত্রে তাকে উপযুক্ত মনে করা হয়েছে, কাস্ট করা হয়েছে, তিনি শুধু অভিনয় করেছেন। এমনকি তাকে যদি জিয়াউর রহমানের চরিত্রেও অভিনয় করতে বলা হয়, তিনি সেটি করবেন।
এ সময় নিজেকে রাজনীতির একেবারেই বাইরের একজন মানুষ দাবি করেন শুভ।
এ বিষয়ে শুভ বলেন, “নির্বাচনে যেতে চাইলে তো মনোনয়নপত্র কিনতে হতো। আমি কি সেটা করেছি? নির্বাচনে দাঁড়াতে হলে তো রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। আপনি আমাকে কখনো দেখেছেন তেমন কিছু করতে? যখনই ‘মুজিব’ করলাম, তখন থেকেই নানা গুঞ্জন আমি নাকি এমপি হচ্ছি, এক টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছি সুবিধা পাওয়ার জন্য। অথচ বাস্তবে এমন কিছু ঘটেছে কি? ‘মুজিব’ করে আমি যদি কোনো বিশেষ সুবিধা নিয়ে থাকি, আপনি অনুসন্ধান করে প্রমাণসহ সবাইকে জানান। আর এই ছবি করার অনেক আগেই স্পষ্ট করে বলেছি, আমি কখনও রাজনীতিতে জড়াবো না। এটি আমার সচেতন এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কেউ চাইলে সেই বক্তব্যের রেকর্ডও খুঁজে পাবেন। রাজনীতি আমার পথ নয়, আমি শুধু অভিনয়টা বুঝি, আর সেটা নিয়েই থাকতে চাই।’
‘মুজিব’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য এক টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন তিনি। তা নিয়েও আছে সমালোচনা।
এ প্রসঙ্গে আরিফিন শুভ বলেন, “শ্রমের মূল্য একজন মানুষ নিজেই নির্ধারণ করেন। এটাই কি স্বাভাবিক নয়? আপনি কি আপনার বেতন নিজে ঠিক করেন না? বলেন তো, এত টাকার কম হলে আমি এখানে জয়েন করবো না, সেটা কি অপরাধ? আমি যদি ১০০ টাকায় সিনেমা করি, আর ‘মুজিব’ করতে ১০ হাজার টাকা নিই- তাহলে সমালোচনার জায়গা ছিল। তখনই সমালোচনা করতে পারতেন। কিন্তু আমি তো উল্টোটা করেছি। পারিশ্রমিক নিইনি। টাকা না নিয়ে চুরি-ডাকাতি করিনি, দেশের ক্ষতি করিনি। আর হ্যাঁ, এটা প্রথম না। কাজের ক্ষেত্রে টাকাকে আমি কখনও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিইনি। আমার কাছে গুরুত্ব পায় টিম, গল্প এসবই। সবশেষ ‘উনিশ ২০’র কথাই ধরুন, যে অঙ্কে চুক্তি হয়েছিল, পুরোটা নেইনি। কেন নেইনি, সেটা চাইলে প্রযোজকের কাছে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে পারেন।”
বলা প্রয়োজন, ঈদুল আজহায় মুক্তি পাচ্ছে আরিফিন শুভ অভিনীত ‘নীলচক্র’। এছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার ‘নূর’, ‘লহু’, ‘জ্যাজ সিটি’ ও ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’।