বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র নায়করাজ রাজ্জাক। শুক্রবার (২১ আগস্ট) কিংবদন্তি অভিনেতাকে হারানোর ৯ বছর। ২০১৭ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান বরেণ্য এই অভিনেতা।
নায়করাজকে বাদ দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস কল্পনা করা অসম্ভব। তিনি অভিনয়ের জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ‘কী যে করি’ সিনেমার জন্য। ২০১১ সালে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় গুণী এই অভিনেতাকে।
অভিনয়ের বাইরে নির্মাতা হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল। তার পরিচালিত আলোচিত ৫টি চলচ্চিত্রের সারসংক্ষেপ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
১. অনন্ত প্রেম
১৯৭৭ সালে মুক্তি পায় ‘অনন্ত প্রেম’। রাজ্জাক-ববিতা জুটির দারুণ ব্যবসা-সফল সিনেমা এটি। পরিচালক হিসেবে রাজ্জাকের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে এ সিনেমায়। সে সময় সিনেমাটি বেশ আলোচনায় আসে। সিনেমার শেষ দৃশ্যে মৃত্যুর আগে নায়ক-নায়িকাকে চুম্বন করতে দেখা যায়।
এ সিনেমায় আরও অভিনয় করেন আনোয়ারা, রওশন জামিল, এটিএম শামসুজ্জামান, ব্ল্যাক আনোয়ার প্রমুখ। এতে সংগীত পরিচালনা করেন আজাদ রহমান।
২. অভিযান
রাজ্জাক পরিচালিত ‘অভিযান’ সিনেমাটি ১৯৮৪ সালে মুক্তি পেয়েছে। এ ছবিটির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন খ্যাতনামা সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। এটি তিন বন্ধুর ব্যবসায়িক অভিযানের গল্প।
এতে অভিনয় করেন নায়করাজ রাজ্জাক, জসিম, ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জনা রহমান ও রোজিনা প্রমুখ।
৩. বদনাম
ঢাকাই চলচ্চিত্রে রাজ্জাক পরিচালিত ‘বদনাম’ একটি জনপ্রিয় সিনেমা। ১৯৮৪ সালের ১৪ আগস্ট মুক্তি পায় এটি। এই সিনেমাটিতে রাজ্জাকের পাশাপাশি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা, বুলবুল আহমেদ ও নূতন। এটি সে সময়ে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। এই ছবির ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ কালজয়ী এ গানের মাধ্যমে প্রয়াত নায়ক জাফর ইকবালের প্লেব্যাকে আত্মপ্রকাশ ঘটে।
৪. চাঁপা ডাঙ্গার বউ
রাজলক্ষী প্রোডাকশন্সের ব্যানারে প্রযোজনা ও তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একই শিরোনামের উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রাজ্জাক। ১৯৮৬ সালের ৬ জুন এটি মুক্তি পেয়েছে।
এ সিনেমার মাধ্যমে রাজ্জাক পুত্র বাপ্পারাজ ও অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসের অভিষেক হয়। এ সিনেমার ‘আমার মনে যারে চায়’ গানটি আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে শোনা যায়। এতে আরও অভিনয় করেছেন শাবানা ও এটিএম শামসুজ্জামান।
৫. বাবা কেন চাকর
১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি পারিবারিক গল্পে নিমির্ত হযেছে। পরিচালনার পাশাপাশি এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজ্জাক নিজেই। এতে তার সঙ্গে জুটি বাঁধেন অভিনেত্রী ডলি জহুর। এ ছাড়া আরও অভিনয় করেন বাপ্পারাজ, অমিত হাসান ও আঞ্জুমান আরা শিল্পীসহ অনেকে। এ সিনেমায় খালিদ হাসান মিলুর গাওয়া ‘আমার মতো এত সুখী নয়তো কারও জীবন’ গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। নতুন প্রজন্মের কাছেও গানটি প্রশংসিত হয়ে আছে।