শাহ আবদুল করিমের শেষ ১০ দিন যেভাবে কেটেছে

বিনোদন ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৫আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৫

শাহ আবদুল করিম চলে গেছেন ১৭ বছর আগে। তবু তার গান আজও মানুষের আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহে মিশে আছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাউলসাধকের মৃত্যুদিন। ২০০৯ সালের এদিন সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ৯৩ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন গণমানুষের এই শিল্পী।

২০০৯ সালের আগস্ট থেকে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। ৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাউল।

এরপর দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অক্সিজেন দেওয়ার পর তাকে সিলেটের নূরজাহান জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। টানা চার দিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। তত দিনে তার স্মৃতিশক্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। একমাত্র ছেলে শাহ নূরজালালসহ হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অন্যদের ভালোভাবে চিনতে পারতেন না।

কথাও বলতে পারতেন না স্পষ্টভাবে। শেষ দিনগুলোয় তাকে কথা বলতে হয়েছে ইশারা-ইঙ্গিতে।

৯ সেপ্টেম্বর কিছুটা খাওয়াদাওয়া করেছিলেন শাহ আবদুল করিম। ধীরে ধীরে কথাও বলছিলেন। একপর্যায়ে গান শুনতে চান। তার শিষ্য বশিরউদ্দিন সরকার তখন নিজের লেখা একটি গান শোনান: ‘কী খেলা খেলতেছেন বাবা করিম শায়/ গাড়ি চলে না চলে না বলে চালাচ্ছেন মৌলায়।’ গানটি শুনে হেসেছিলেন করিম।

এরপর বশিরউদ্দিন গেয়ে শোনান তার ওস্তাদেরই লেখা ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’। এবার শাহ আবদুল করিমের চোখ বেয়ে পানি ঝরতে থাকে। উপস্থিত ব্যক্তিরা এমন গান শোনানোর জন্য বশিরউদ্দিনকে দোষারোপ করলে করিম ইশারায় তাদের থামিয়ে দেন।

শাহ আবদুল করিমের প্রধান শিষ্যদের একজন বাউলশিল্পী আবদুর রহমান। ১৯৭৭ সালে করিমের শিষ্যত্ব নেওয়া রহমানকে আদর করে তিনি ডাকতেন ‘রহমান সাধু’। হাসপাতালে ওস্তাদের শেষ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবদুর রহমান জানিয়েছিলেন, করিম কথা বলতে চাইতেন, কিন্তু তার কণ্ঠ এতটাই অস্পষ্ট ছিল যে কিছু বোঝা যেত না। পরিচিতজনদের কাছে ডেকে ইশারায় বলতেন, ‘কই বেটাইন, তোমরা কই? মানুষ আনো, গফ করি। আর দরজাটা লাগাও।’

১১ সেপ্টেম্বর সকালে বাউল করিমের অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। ঘন ঘন শ্বাস নিতে শুরু করেন তিনি। তারপর চিকিৎসকেরা এসে শাহ আবদুল করিমকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেন। বলা হয়েছিল, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আগে তার অবস্থার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।

কিন্তু সেই সময় আর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে ১০ দিন কাটানোর পর তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে উজানধল গ্রামে স্ত্রী সরলার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জন্ম শাহ আবদুল করিমের।  তার লেখা গানের সংখ্যা প্রায় ৫০০। ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বসন্ত বাতাসে’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইল’, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে’সহ তার অসংখ্য গান মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।

/এনআই/
সম্পর্কিত
কবি সৈয়দ তাকি মোহাম্মদ মারা গেছেন
কবি সৈয়দ তাকি মোহাম্মদ মারা গেছেন
হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
জমে থাকা পানিতে নেমে ভাইবোনসহ ৩ শিশুর মৃত্যু
জমে থাকা পানিতে নেমে ভাইবোনসহ ৩ শিশুর মৃত্যু
আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে: আলিফের শেষ বার্তা
আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে: আলিফের শেষ বার্তা
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
মিমির বিয়ের দিনক্ষণ ফাঁস, পাত্র কে
মিমির বিয়ের দিনক্ষণ ফাঁস, পাত্র কে
‘পেইড’ রিভিউ দেখে ‘টক্সিক’ সিনেমা বিচার না করার আহ্বান ব্রিটিশ অভিনেতার
‘পেইড’ রিভিউ দেখে ‘টক্সিক’ সিনেমা বিচার না করার আহ্বান ব্রিটিশ অভিনেতার
‘প্রেমের হাওয়া’তে দোলা, সঙ্গে মিলন
‘প্রেমের হাওয়া’তে দোলা, সঙ্গে মিলন
২০০ কোটি ক্লাবে ভারতের সবচেয়ে কম বাজেটের সিনেমা ‘হনুমান আংশ’
২০০ কোটি ক্লাবে ভারতের সবচেয়ে কম বাজেটের সিনেমা ‘হনুমান আংশ’
মা হলেন লেডি গাগা
মা হলেন লেডি গাগা