সুদর্শন নায়ক বলতে যে কয়জন সত্তর-আশির দশকে বাঙালি দর্শকের মন জয় করেছেন, তরুণীদের স্বপ্নের মানুষ হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম বুলবুল আহমেদ।
১৯৪১ সালের (৪ সেপ্টেম্বর) আজকের এই দিনে পুরান ঢাকার আগামসিহ লেনে তার জন্ম।
লেখাপড়ায় বরাবরই সচেতন ছিলেন বুলবুল আহমেদ। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে নটর ডেম কলেজে ভর্তি হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করে ব্যাংকের চাকরিতে যোগ দেন। ব্যাংকের শাখাপ্রধান হিসেবে চাকরি করেন টানা ১০ বছর।
এর মধ্যে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদ ছেড়ে অভিনয়ে নাম খেলান ‘দেবদাস’ খ্যাত অভিনেতা। তারপর সাবলীল অভিনয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নেন এই কিংবদন্তি চিত্রনায়ক।
বুলবুল আহমেদের অভিনয়জীবন ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। টেলিভিশনে তার প্রথম নাটক আবদুল্লাহ আল–মামুনের ‘পূর্বাভাস’।
১৯৭৩ সালে ইউসুফ জহির পরিচালিত ‘ইয়ে করে বিয়ে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার বড় পর্দায় পথচলা শুরু হয়। এরপর একে একে উপহার দেন ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘সূর্য কন্যা’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘বধূ বিদায়’, ‘ভালো মানুষ’ এবং কালজয়ী সিনেমা ‘দেবদাস’ ও ‘মহানায়ক’-এর মতো চলচ্চিত্র।
আলমগীর কবির পরিচালিত ‘মহানায়ক’ চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের পর থেকেই দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীরা তাকে ‘মহানায়ক’ হিসেবে ডাকতে শুরু করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনায়ও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তার পরিচালিত ‘মহানায়ক’, ‘রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত’ ও ‘আকর্ষণ’ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
চলচ্চিত্রে অনন্য অবদানের জন্য তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৮০ ও ১৯৯৬) এবং একাধিকবার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন।
পারিবারিক জীবনে ১৯৬৩ সালে ফৌজিয়া আহমেদ ডেইজিকে বিয়ে করেন বুলবুল আহমেদ। এই দম্পতির তিন সন্তান—ঐন্দ্রিলা, তিলোত্তমা ও শুভ।
বুলবুল আহমেদ ২০১০ সালের ১৫ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তবে রূপালি পর্দায় রেখে যাওয়া অমর সৃষ্টি তাকে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখবে সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে।