শহীদ মিনারের মঞ্চ থেকে ওটিটি, কোথায় নেই রুনা খান

একজন অভিনেত্রীর কাছে চরিত্র শুধু সংলাপ, পোশাক আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর বিষয় নয়। প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি জীবন, তার গল্প, সংকট, আনন্দ-বেদনা ও যাপনের ধরন। সেই জীবনকে বোঝার চেষ্টা করাই রুনা খানের অভিনয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ। পর্দায় নিজেকে তুলে ধরার চেয়ে চরিত্রের মানুষটিকে ফুটিয়ে তুলতেই যেন বেশি আগ্রহী তিনি।

২০০১ সালে পথনাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি রুনা খানের। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে একটি পথনাটকের প্রদর্শনীর আগে দলের এক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকেই মঞ্চে উঠতে হয়।

হাজারো দর্শকের সামনে শুরুতে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে প্রমাণ করেন রুনা। সেই মঞ্চই হয়তো তাকে প্রথম বুঝিয়েছিল, একটি চরিত্রে ঢুকে পড়া মানে কিছু সময়ের জন্য অন্য একটি জীবনকে নিজের ভেতর ধারণ করা।

রুনা খান। ছবি: ফেসবুক থেকে

এরপর ২০০৪ সালে ‘সিসিমপুর’ দিয়ে শুরু হয় তার পেশাদার অভিনয়জীবন। মঞ্চ ও টেলিভিশন পেরিয়ে সিনেমা এবং ওটিটিতেও নিজের অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। পেয়েছেন জাতীয় স্বীকৃতিও।

২০০৯ সালে বিয়ের পর মাতৃত্বের কারণে প্রায় তিন বছর অভিনয় থেকে বিরতিতে ছিলেন রুনা। পরে পরিবার ও সন্তানকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ধারাবাহিকের বদলে একক নাটক, টেলিছবি ও সিনেমায় বেশি মনোযোগ দেন।

এদিকে দেশে ওটিটির বিস্তারের সঙ্গে রুনার সামনে খুলে যায় আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রের দরজা। ‘আন্তঃনগর’-এর রোজিনা, ‘অসময়’-এর এমিলি রহমান, ‘বোধ’-এর দীপ্তিসহ বিভিন্ন ওয়েব কনটেন্টে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। বিশেষ করে ‘অসময়’-এ এমিলি রহমান চরিত্রটি তার অভিনয়জীবনে আলাদা মাত্রা যোগ করে।

রুনা বলেন, ‘অভিনয় আমার কাছে ভালোবাসার জায়গা। আমি এটিকে কখনও শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখিনি। হয়তো সে কারণে কাজ কম হলেও আমি এমন কিছু করতে চাই, যেটি করার পর মনে হবে সময়টা সার্থক হয়েছে।’

নিজের পছন্দের সব চরিত্র সব সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও যে কাজের প্রস্তাব পান, সেখান থেকেই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তার ভাষ্যে, ‘যারা আমাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ভেবেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

রুনা খান। ছবি: ফেসবুক থেকে

শহীদ মিনারের সেই মঞ্চ থেকে আজকের ওটিটির পর্দা—রুনা খানের পথচলা তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের গল্প নয়; চরিত্রের ভেতর দিয়ে নানা মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে দেখারও গল্প।

রুনা খানের হাতে বর্তমানে কয়েকটি সিনেমা আছে। এগুলো হলো-কৌশিক শংকর দাসের ‘দাপন’ মাসুদ পথিকের ‘বক’ জাহিদ হোসেনের ‘লীলামন্থন, সন্দিপ বিশ্বাসের ‘অসীমের পানে’ ও শেষ রাজন তালুকদারের ‘জলপবন‘।

এছাড়া খুব শিগগির একটি ওয়েব ফিল্মের কাজ শুরু করবেন তিনি। শুটিং শুরু হলেই সিনেমাটি নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন অভিনেত্রী।