বিচ্ছেদের পর ‘অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ’ বলে কীসের ইঙ্গিত দিলেন নিকোল কিডম্যান

বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন হলিউড অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান। সম্প্রতি ভোগ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী টম ক্রুজ ও কিথ আরবানের সঙ্গে তার দুটি বিবাহবিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।

তিনি জানান, প্রতিটি বিচ্ছেদে তার নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিশেষ করে কিথ আরবানের সঙ্গে বিচ্ছেদের সময়টা ছিল তার জন্য অনেক কঠিন। একই সঙ্গে সেই পরিস্থিতি তাকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছে।

কিডম্যান বলেন, ‘একটা সময় আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম এবং ভীষণ অসহায় বোধ করছিলাম। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসাও খুব কঠিন ছিল। একই সময়ে ভাবছিলাম, আমি হয়তো বিষয়টি গোপন করে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারি। আর না হয় প্রচুর আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি অনেক পরিকল্পনা করেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কিছু ভাবেন। এরপর দেখা যায়, বাস্তবতা সেভাবে এগোয়নি। তখন আপনাকে মানিয়ে নিতে হয়। পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে হয়। এই মুহূর্তে ভবিষ্যৎ আমার কাছে পুরোপুরিই অজানা।’

কিথ আরবান ও হলিউডের সুপারস্টার টম ক্রুজের সঙ্গে দীর্ঘ সময় সংসার করেন নিকোল কিডম্যান।

২০০৬ সালে কিথ আরবানকে বিয়ে করেন তিনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কিডম্যান বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। দাম্পত্য জটিলতা ও মতপার্থক্যের কারণে বিচ্ছেদের আবেদন করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের বাইরে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়।

এর আগে ১৯৯০ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে টম ক্রুজকে বিয়ে করেছিলেন কিডম্যান। তখন ক্রুজের বয়স ছিল ২৮ বছর। ২০০১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

সাক্ষাৎকারে টম ক্রুজের সঙ্গে সম্পর্কের শুরুর সময়ের কথা স্মরণ করে কিডম্যান বলেন, ‘তিনি গভীরভাবে প্রেমে পড়েছিলেন এবং বিয়ের সিদ্ধান্তে নিজের ক্যারিয়ারকে প্রভাব ফেলতে দিতে চাননি। তবে সেই সময় অনেকেই তাকে সতর্ক করেছিলেন যে এই বিয়ে তার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে। ’

কিডম্যান বলেন, ‘আমার মনে আছে, মানুষ আমাকে বলেছিল, এটা তোমার ক্যারিয়ারে সত্যিই প্রভাব ফেলবে। আমি বলেছিলাম, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি প্রেমে পড়েছি। আমি বিয়ে করতে চাই।’

মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিকোল কিডম্যানের অভিনয় যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান সিনেমা ‘বুশ ক্রিসমাস’-এর মাধ্যমে। এরপর তিনি বেশ কিছু অস্ট্রেলিয়ান টেলিভিশন ও সিনেমায় কাজ করেন। হলিউডে তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ১৯৯০ সালের ‘ডেইজ অব থান্ডার’।