গত ২৫ আগস্ট কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী ডলি পার্টন মারা যান। ৮০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুর আগে অল্প কিছু সময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেন এ তারকা। তবে তার ভাগনি জানালেন, গায়িকা ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন।
ভাগনি জাডা স্টারের ভাষ্য, ‘ডলি কখনোই তার অসুস্থতার কারণে কাউকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চাননি। তাই শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ব্যক্তিগতই রেখেছিলেন তিনি।’
নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে না এনে কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। সম্প্রতি ‘এক্সট্রা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডলি পার্টনের ভাগনি জাডা স্টার প্রয়াত গায়িকাকে স্মরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতির কথা জানান।
এ বিষয়ে কথা বলেন জাডা। তার ধারণা, আশপাশের মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চাননি বলেই নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেননি ডলি।
জাডা বলেন, ‘তিনি কখনোই কাউকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চাইতেন না। তাই আমার মনে হয় বিষয়টি আমাদের জন্য নিছকই এক ধাক্কা ছিল। আমাদের তিনি বলতেন, কান্নাকাটি বন্ধ করে কাজে ফেরার চেষ্টা করতে এবং একে অপরকে খুব ভালোবাসতে। তিনি সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন।’
ডলির মৃত্যুতে টেলর সুইফটের পাশাপাশি সংগীত ও বিনোদন জগতের আরও অনেক তারকা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ডলির ধর্মকন্যা মাইলি সাইরাস ও তার বাবা বিলি রে সাইরাস, অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুন, গায়িকা বিয়ন্সে, র্যাপার এমিনেম ও কেলি ক্লার্কসনসহ অনেকে।
১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির পিটম্যান সেন্টারের একটি দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম ডলির। মা লোকগান গাইতেন। সেই গান শুনেই বড় হয়েছেন তিনি। মাত্র ছয় বছর বয়সে নিজের প্রিয় পুতুলকে নিয়ে প্রথম গান লেখেন। আট বছর বয়সে প্রথম তার হাতে ওঠে গিটার। ১১ বছর বয়সে স্থানীয় বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৩ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ কান্ট্রি সংগীতের মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পান এই কিংবদন্তি।