বুধবার ওয়াশিংটনের এক হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের পরিকল্পিত পররাষ্ট্রনীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করবেন।
পররাষ্ট্রনীতির বিস্তারিত জানাতে গিয়ে রাশিয়া আর চীনের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা নিরসনের আশ্বাস দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ কেউ বলে থাকেন রাশিয়া কোনওভাবেই যৌক্তিক-বিবেচনাপ্রসূত ও ন্যাঙসঙ্গত অবস্থান নিতে পারবে না। তবে আমাকে এই ভাষ্যের সত্যতা খুঁজে দেখতে হবে।’
রাশিয়ার প্রসঙ্গে খানিকটা বিস্তারিত আলোচনা করলেও চীনের সঙ্গে কিভাবে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবেন তা জানাননি ট্রাম্প।
বিশ্বের প্রতি একটি দেশের দৃষ্টিভঙ্গি কী তার প্রতিফলিত ঘটে সেই দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমসহ রুশপন্থী বিভিন্ন মাধ্যমে বেশ আগে থেকেই ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিকে ডেমোক্র্যাট মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটনের পররাষ্ট্রনীতির চেয়ে শ্রেয়তর বলা হচ্ছে। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন ও মস্কোর বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধ তুলে নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীতে হিলারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত তা চায় না রাশিয়া। গত মার্চে নাম প্রকাশ না করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এক রুশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা হিলারিকে চাই না। তিনি রাশিয়ার প্রতি বন্ধুসুলভ নন।’
ট্রাম্প আর রাশিয়ার পারস্পরিক আস্থার প্রমাণ মেলে পুতিন-ট্রাম্পের সম্পর্ক বিবেচনা করতে গিয়েও। ট্রাম্প আর পুতিন যেভাবে প্রকাশ্যে একে অপরের প্রশংসা করেছেন তাতেও বলার অপেক্ষা রাখে না তাদের সম্পর্কে খানিকটা হলেও মিষ্টতা রয়েছে। গত ডিসেম্বরে বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে পুতিন ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, ‘ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের যোগ্য প্রার্থী।’ একইসঙ্গে ট্রাম্পকে ‘অনেক উজ্জ্বল আর মেধাবী ব্যক্তি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। রাশিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের ইতিবাচক অবস্থানের কারণে তাকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণায় দেশের মানুষদের উদ্দেশে ট্রাম্প যে ধরনের মন্তব্যই করুন না কেন রাশিয়ার ব্যাপারে তার অবস্থান বেশ আশাব্যঞ্জক।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের যোগ্যতা নির্ধারণ করার কাজ আমাদের নয়, তা মার্কিনিদের ভোটেই নির্ধারিত হবে। তবে এটুকু বলতে পারি যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ের ক্ষেত্রে ট্রাম্প যথাযথ প্রার্থী।’ পরবর্তীতে ট্রাম্পও পুতিনকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে অভিহিত করেন। আর বুধবার ওয়াশিংটনে দেওয়া ভাষণে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টিও তার পররাষ্ট্রনীতির অংশ বলে জানান ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারণায় নামার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রাসী মন্তব্য করে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্য নিজের দলের ভেতরেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে, সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পর্ক নিয়ে নিজের প্রথম এই বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগের চেয়ে কৌশলী ও সংযত মনে হয়েছে। লিখিত ভাষ্যের বাইরে কোন কথা বলেননি তিনি। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা, পলিটিক্যাল ইনসাইডার
/এফইউ/বিএ/