জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

পানির সঙ্কটে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা, চরম ঝুঁকিতে এশিয়া

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট পানির সংকট ওই অঞ্চলগুলোর অর্থনীতিতে ব্যাপক বিপর্যয় তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। মঙ্গলবার বিশ্ব ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, পানির স্বল্পতার কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ এসব অঞ্চলের জিডিপি গড়ে ৬ শতাংশ নেমে যেতে পারে। আর যে মহাদেশ আমাদের আবাস, সেই এশিয়া অঞ্চলের পরিস্থিতি বেশি ভয়াবহ হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এল নিনোর প্রভাবে হর্ন অব আফ্রিকার লাখ লাখ মানুষ খরা কবলিত

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের  যে দেশগুলোতে এখন পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ রয়েছে ২০৫০ সাল নাগাদ সেই সব দেশের বিভিন্ন শহর ও কৃষিক্ষেত্রে পানির চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। আর আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এসব অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে কার্যত অর্থে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী বলে বিবেচিত উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনীতি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।  

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ অনেক অঞ্চলে পানির স্বল্পতা দেখা দিতে পারে

পানির স্বল্পতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জিডিপি ১৪ শতাংশ, সাহেলে প্রায় ১২ শতাংশ এবং মধ্য এশিয়ায় ১১ শতাংশ জিডিপি কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে। আর সবগুলো অঞ্চলকে বিবেচনায় নিলে জিডিপি হ্রাসের হার ৬ শতাংশ হতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের পরিবেশগত অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ডামানিয়া বলেন, ‘পানির স্বল্পতা জিডিপির ওপর তীব্র আঘাত হানতে পারে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, পানির ঘাটতির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়া। ২০৫০ সাল নাগাদ কোনও কোনও শহরের পানি সরবরাহের সক্ষমতা দুই-তৃতীয়াংশ কমে যাবে। আর এ পানির স্বল্পতা খাদ্য উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য ও পারিবারিক আয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য পরিবারগুলোকে বেশি বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।

২০৫০ সাল নাগাদ অনেক অঞ্চলে পানির স্বল্পতা দেখা দিতে পারে

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বড় একটি অংশ একটি উষ্ণতর ও শুষ্কতর ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা মনে করেন. বৃষ্টিপাত ও মৌসুমীবায়ুর পূর্বাভাস দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে যা দক্ষিণ এশিয়ার কৃষির জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত। জলোচ্ছ্বাসের কারণে বিশুদ্ধ জলাধারগুলো দূষিত হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

তবে পানির যথাযথ ব্যবহারকে আরও উৎসাহ প্রদানের মধ্য দিয়ে পানির স্বল্পতা ঠেকানোর পাশাপাশি মধ্য শতক নাগাদ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকানো যেতে পারে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর নীতিমালার মধ্য দিয়ে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপি ১১ শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এফইউ/বিএ/