লন্ডনের সম্ভাব্য মেয়র সাদিক খান, সমর্থন দিচ্ছেন টিউলিপ-রুশনারা

জরিপ সংস্থার অনুমান ঠিক হলে, সাদিক খানই হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র। তাকে সমর্থন দিচ্ছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকাংশ ভোটার। এদের মধ্যে বাঙালি এমপি রুশনারা আলী  এবং বঙ্গবন্ধু নাতনি টিউলিপ সিদ্দীকও রয়েছেন। তবে বাংলাদেশি কমিউনিটির একাংশের পক্ষ থেকে ৭১ এর গণহত্যায় ক্ষমা না চাওয়ায় পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাদিক খানকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। 

সম্ভাব্য মেয়র সাদিক খান
এ পর্যন্ত যতগুলো জরিপ পরিচালিত হয়েছে তাতে রক্ষণশীল প্রার্থী জ্যাক গোল্ডস্মিথের বিজয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে বিগত জাতীয় নির্বাচনে জরিপ সংস্থাগুলো লেবার পার্টিকে এগিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত কনসারভেটিভ পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিলো। তাই কেবল জরিপের ভিত্তিতেই ৫ মে‘র নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে সাদিক খানকে মেয়র বলা যাচ্ছে না। 

লন্ডনের টোটিং এলাকার এমপি সাদিক খান কখনো নির্বাচনে হারেননি। আজ (৫ মে) যদি ভোটাররা সাদিক খানকে নির্বাচিত করেন, তাহলে তিনিই হবেন লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র। সাদিক খান ব্রিটেনের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ব্রিটেনের প্রথম সারির দৈনিক ‘দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট’।

ভোট ফর সাদিক পোস্টার হাতে নবজাতক সহ টিউলিপ সিদ্দীক এমপি

তবে ‘দ্য সান‘ পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাদিক খান এমপির জন্য যেসকল গ্রুপ কাজ করেছে তারা ইহুদি বিদ্বেষী, সমকামিতার বিরুদ্ধে এবং বৈবাহিক ধর্ষণকে সমর্থন করে আসছে। তারপরও লন্ডনের  প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন ভোটার মনে করছেন, কনসারভেটিভ প্রার্থী জ্যাক গোল্ডস্মিথের নির্বাচনী প্রচারণা ছিল ‘নোংরা’ধরনের।  অন্যদিকে সাদিক খানের বিষয়ে এরকম ধারণা পোষণ করেন কেবলমাত্র শতকরা আট ভাগ ভোটার। এই সূচক সাদিক খানকে প্রায় মিলিয়ন ভোট ব্যবধানে এগিয়ে রাখছে।

দুই প্রার্থীর প্রতি নারী ভোটারদের পূর্ববর্তী সমর্থন ছিল ৫০/৫০। কিন্তু এখন সেই পাল্লাটা সাদিক খানের দিকেই ঝুঁকে গেছে, যেখানে তিনি এগিয়ে থাকছেন ৬০/৪০ ব্যবধানে। অপিয়ামের করা আরেকটি জরিপ অনুযায়ী এই সূচকে খান ও গোল্ডস্মিথের ব্যবধান ৫৭/৪৩। সবকিছু পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, সাদিক খান খুবই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এবং জরিপ অনুযায়ী তিনি বিপুল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জ্যাক গোল্ডস্মিথকে হারিয়ে জিততে চলেছেন।

সেক্ষেত্রে শুক্রবার চূড়ান্ত ঘোষণায় লন্ডন মেয়র হিসেবে তাঁর নামই উচ্চারিত হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশী কমিউনিটির অধিকাংশ ভোটার সাদিক খানকে সমর্থন দিচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেণ বাঙালি এমপি রুশনারা আলী  এবং বঙ্গবন্ধু নাতনি টিউলিপ সিদ্দীক এমপি। টিউলিপ তার নবজাতকসহ সাদিক খানের সমর্থনে ফেসবুকে ‘সাদিক খান ফর লন্ডন’ শিরোনামে পোস্টার আপলোপ করে বলেছেন তিনি সাদিক খানকে মেয়র হিসেবে ভোট দেবেন।

বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় মুদ্রিত ‘১৯৭১ -এর ক্ষমাহীন অপরাধ‘ এর ছবি

তবে শেষ মূহুর্তে ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের নামে জিয়াউদ্দীন লালা ও নুর মনির তত্বাবধানে ‘১৯৭১ সালের ক্ষমাহীন অপরাধ’ শিরোনামে বাংলা ও ইংরেজিতে একটি লিফলেট ছাড়া হয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। লিফলেটে ১৯৭১ সালে গণহত্যার জন্য ক্ষমা না চাওয়ায় পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত সাদিক খানকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে।

/বিএ/