কানাডার তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল অ্যালবার্টা প্রদেশের ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি সোমবার অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দাবানল ক্রমেই বাড়তে থাকায় তা পার্শ্ববর্তী সাসকাচুয়ান প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এলাকা থেকে সরে যাওয়া প্রায় এক লাখ লোক শিগগিরই ফিরতে পারছে না। খরা ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন শত শত অগ্নিনির্বাপন কর্মী। কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের দাবানলের কয়েক মাস ধরে টিকে থাকাও অস্বাভাবিক নয়।
১ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় অ্যালবার্টা প্রদেশের উত্তরের ফোর্ট ম্যাকমুরে আগুন লাগে। খুব দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ায় শহরটির ৮৮ হাজার বাসিন্দার শহর ছেড়ে যাওয়ার সময় ছিল না বললেই চলে। দাবানলে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বাড়ি ও অন্যান্য ভবন ভস্মীভূত হয়েছে। এখন শহরটির একটি বড় অংশের অস্তিত্বই আর নেই। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দাবানলের ফলে স্থানান্তর হওয়া হাজার হাজার লোক আশপাশের শহরে তাঁবু গেড়ে ঠাঁই নিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যালবার্টা প্রদেশের ফোর্ট ম্যাকমুরে দিয়ে দাবানলটি ব্যাপকভাবে ছড়ানো হলেও শুকনো উত্তরের বন দিয়ে তা ক্রমেই উত্তর-পূর্ব দিকে যাচ্ছে। কাজেই বাসিন্দাদের ফেরার জন্য শহরটি এখনো খুব ঝুঁকিপূর্ণ। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা স্থানান্তরিত সেসব ব্যক্তিকে অ্যালবার্টা প্রদেশের দক্ষিণের ক্যালগিরি শহরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কেননা সেখানকার স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবা তুলনামূলক ভালো।
শনিবার রাতে অ্যালবার্টা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রায় দুই লাখ হেক্টর এলাকা (মেক্সিকো শহরের সমান) জুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা আরও বাড়ছে। কর্মকর্তারা জানান, ফোর্ট ম্যাকমুরেতে পাঁচ শর বেশি অগ্নিনির্বাপক ১৫টি হেলিকপ্টার, ১৪টি বায়ু ট্যাংকার ও অন্যান্য ৮৮টি যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করছেন। গতকাল রবিবার ও আজ সোমবার সেখানে বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, তুমুল বৃষ্টিপাতেই কেবল দাবানল বন্ধ হওয়া সম্ভব।
/এমপি/