এর আগে বিশ্বের বেশ কয়েকজন রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ প্রভাবশালী কয়েকজনের নাম প্রকাশ করে আইসিআইজে।
নতুন করে ফাঁস হতে যাওয়া দুই লাখের বেশি অফশোর অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৬২৫ জন কানাডার নাগরিকের নাম আছে বলে জানানো হয়েছে। ফাঁস হওয়া উপাত্ত থেকে অনুসন্ধান করা যায় এমন দুই লাখের অফশোর কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য আজ অনলাইনে ছাড়া হবে। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে বেনামে পরিচালিত বিভিন্ন অফশোর কোম্পানি এবং তাদের আসল মালিকদের নামের একটি বড় তালিকা সবার সামনে উন্মুক্ত হবে।
ইন্টারনেটে ছাড়া হবে পানামা পেপারস এর এই দ্বিতীয় কিস্তি। পাওয়া যাবে আইসিআইজের ওয়েবসাইটে। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা থেকে https://offshoreleaks.icij.org ঠিকানায় ক্লিক করলে যে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন সেখানে।
আইসিআইজের পরিচালক জেরার্ড রাইল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ের কিছু নির্দিষ্ট লোকের নাম প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বে আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৭০ জন সাংবাদিক প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে দেখছেন। এটা বিশাল তথ্যভান্ডার। অনেক তথ্য। এবার দুই লাখের বেশি অফশোর কোম্পানির নাম প্রকাশ করা হবে। সেখানে কোম্পানির নাম ও ঠিকানা উল্লেখ থাকবে। কোম্পানিগুলোর পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের নামও প্রকাশ করা হবে।’
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে পানামা পেপারস ফাঁসের মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাঘববোয়ালদের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য সবার সামনে চলে আসে। গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকা, যেটি পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠান, সেখান থেকেই সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে ১১ মিলিয়ন নথিপত্র। ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে দেখা যায়, অর্থ পাচার করতে, কর ফাঁকি দিতে এবং বিভিন্ন রকম নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই আইনি প্রতিষ্ঠানটি তার মক্কেলদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছে আর তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন বিশ্বের শীর্ষ রাজনীতিক থেকে শুরু করে ক্ষমতাবান ও সম্পদশালীরা। পানামা পেপারস ফাঁসের পর বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ ঘটনার জেরে এরইমধ্যে পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও স্পেনের শিল্পমন্ত্রী।
ফাঁস হওয়া নথিগুলোর তথ্য নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তদন্ত শুরু হয়। ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড-অস্ট্রিয়া-সুইডেন-নেদারল্যান্ডসসহ বেশকিছু দেশ তাদের নিজ নিজ দেশের অভিযোগ ওঠা ধনী ও ক্ষমতাশালীদের ব্যাপারে তদন্তের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও তদন্ত শুরুর কথা জানায়।
/বিএ/