পৃথিবীর আকারের নতুন শতাধিক গ্রহের সন্ধান!

পৃথিবীর আকারের ১শটিরও বেশি নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা। তবে গ্রহগুলো পৃথিবীর মতো সূর্যের চারপাশে নয়, নক্ষত্রের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে। বিজ্ঞানীরা সাধারণত সৌরজগতের বাইরে থাকা এ ধরনের গ্রহকে এক্সোপ্ল্যানেট নামে ডেকে থাকেন। আর তাই নাসার কেপলার টেলিস্কোপে ধরা পড়া নতুন এ গ্রহগুলোকেও ডাকা হচ্ছে এক্সোপ্ল্যানেট হিসেবে। নাসার দাবি, একসঙ্গে এতগুলো এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের ঘটনা এই প্রথম।

মঙ্গলবার এক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন এই আবিষ্কার নিয়ে আলোচনা করেন স্পেস এজেন্সি সায়েন্টিস্টরা। বিজ্ঞানীরা জানান, নতুন করে শনাক্ত হওয়া এ ১শটিরও বেশি গ্রহের মধ্যে ৯টির অবস্থান তথাকথিত বাসযোগ্য গ্রহের অঞ্চলে। এ অঞ্চলের গ্রহে পানি থাকার সম্ভাবনা থাকে এবং জীবনের অস্তিত্বের জন্য উপযোগী বলে ধারণা করা হয়।

_89655534_89655533

নাসার এমেস রিসার্চ সেন্টারের কেপলার মিশনের বিজ্ঞানী ডঃ নাতালি বাতাহা জানান, মিল্কি ওয়েতে ১০ বিলিয়নেরও বেশি এ ধরনের গ্রহ থেকে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত এমন অন্তত ১২৮৪টি গ্রহ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে কেপলার; যেগুলো নক্ষত্রের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে থাকে।

নাতালি আরও বলেন, ‘বসতি স্থাপনের জন্য সম্ভাবনাময় এক্সোপ্ল্যানেটগুলোর মধ্যে ২৪ শতাংশই আকারে পৃথিবীর চেয়ে ছোট হয়ে থাকে।’

নাতালির মতে, সবচেয়ে বাসযোগ্য গ্রহটি পৃথিবীর খুব কাছেই হয়তো আছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি নিজেদের প্রশ্ন করেন যে পরবর্তী সম্ভাব্য বাসযোগ্য গহটি কোথায় থাকতে পারে। তাহলে ধরে নেবেন এটি ১১ আলোক-বর্ষের মধ্যেই আছে। তার মানে এটি খুবই কাছে।’

আরও পড়ুন: মায়া সভ্যতার হারিয়ে যাওয়া শহর খুঁজে পেল কিশোর

নাসার অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বিভাগের প্রধান পল হার্টজ বলেন, ‘আমাদের এই খোঁজাখুঁজির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পৃথিবীর মত জলীয় বাষ্প, অক্সিজেন, মিথেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ একটি গ্রহ খুঁজে পাওয়া। এই কয়টি উপাদান পাওয়া গেলে বোঝা যাবে সেখানে একটি জৈবিক ইকোসিস্টেম রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, নাসার কেপলার মিশন হচ্ছে এমন একটি প্রকল্প যা গঠিতই হয়েছে মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো অন্য কোন গ্রহে প্রাণের বিকাশ হয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করা। সূত্র: বিবিসি

/ইউআর/এফইউ/