চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ট্যাবলয়েড পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস বলছে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো রানির মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করছে। দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়া না পড়া নিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলো আগ বাড়িয়ে কথা বলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে গ্লোবাল টাইমসে। চীনের কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম বিষয়টি একেবারেই এড়িয়ে গেছে। এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির অভিযোগ, তাদের ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের খবর থেকে রানির খবরটিকে বাদ দিয়েছে চীন।
আরও পড়ুন: চীনকে নিয়ে রানির ক্ষুব্ধ মন্তব্য, পারস্পরিক সম্পর্কে ফাটলের আশঙ্কা
মঙ্গলবার বাকিংহাম প্যালেসের গার্ডেন পার্টিতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমান্ডার লুসি ডোরসির কাছে চীনা কর্মকর্তাদের ব্যাপারে অসন্তুষ্টি জানান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তিনি বলেন গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং যখন যুক্তরাজ্য সফর করেছিলেন তখন তার সঙ্গে থাকা চীনা কর্মকর্তাদের আচরণ মার্জিত ছিল না। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে চীনা কর্মকর্তারা রূঢ় ব্যবহার করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাণী যখন অভিযোগ করছিলেন সে দৃশ্যটুকু ক্যামেরায় ধারণ করেন তার অফিসিয়াল ক্যামেরাপার্সন। পরে সে ভিডিওটির ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশ হয় যে চীনের প্রতি রানি ক্ষুব্ধ। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল দেখা দিতে পারে।
এ ব্যাপারে চীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া না জানানো হলেও সরকারের দল কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ সার্কুলেশনের ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস বলছে, রানি চীনা কর্মকর্তাদের আচরণকে রূঢ় বলে যে মন্তব্য করেছেন তাকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করছে এবং এ নিয়ে বেইজিং ও লন্ডনের মধ্যকার সম্পর্ক নষ্ট হবে বলে নানা গল্প ছড়াচ্ছে। গ্লোবাল টাইমসের সাংবাদিক কিউ জিয়ানগিয়ুর লেখা এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পশ্চিমা বিশ্বের মিডিয়াগুলো অন্য যেকোনও কিছুর চেয়ে গুঞ্জন ছড়াতে বেশি পছন্দ করে।’
কিউর লেখা নিবন্ধের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- ‘রানির ব্যক্তিগত আলাপচারিতা নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ার প্রতারণা, যুক্তরাজ্যের গুজব ছড়ানোর দক্ষতায় মুগ্ধ বিশ্ব’। নিবন্ধে আরও বলা হয়, যদি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর ছড়ানো গুজবের সত্যতা থাকতো তবে প্রিট স্ট্রিট এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতো। তবে এ ধরনের অতিরঞ্জিত সংবাদ ব্রিটেন ও চীনের মধ্যকার সোনালি সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
আরও পড়ুন: অভিশংসনের পক্ষে সিনেটের রায়, পদ হারালেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট
কিউ আরও বলেন, এটি খুবই সাধারণ ব্যাপার যে সম্পর্ক যতো ঘনিষ্ঠ হবে ততো বেশি বিরোধ তৈরি হবে। আড়ালে বন্ধু সম্পর্কে এক আধটু অভিযোগ আরেক বন্ধু করতেই পারে। আমার ধারণা চীনা কর্মকর্তারাও এমন করে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।’
বেইজিং ইয়ুথ ডেইলি পত্রিকার প্রথম পাতায় চীনা ফুটবল খেলোয়াড়দের নিয়ে খবর প্রকাশ করা হলেও জায়গা পায়নি বাকিংহাম প্যালেস ও বেইজিং এর মধ্যকার খবরটি। গ্লোবাল টাইমসের ইংরেজি সংস্করণেও এ খবরটি নেই। টোটিয়াও ওয়েবসাইটে রানির খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে রানির মন্তব্যকে চীন ও ব্রিটেনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দূরত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে তাদের ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের খবর থেকে চীনে রানির খবরটি বাদ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি
/এফইউ/বিএ/