ট্রাম্পকে হারাতে হিলারিকে সহায়তার অঙ্গীকার সাদিক খানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনান্ড ট্রাম্পকে হারাতে হিলারি ক্লিনটনকে সহায়তার অঙ্গীকার করেছেন লন্ডনের নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক খান। বুধবার লন্ডনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

সাদিক খান বলেন, ট্রাম্পের নেতিবাচক বক্তব্য সত্ত্বেও চলতি মাসের ৫ তারিখে অনুষ্ঠিত লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয় আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। আশা করছি হিলারিসহ অন্য আমেরিকানরা লন্ডনের সাম্প্রতিক এ নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেবেন।’

চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র সফরের ইচ্ছার কথাও জানান সাদিক খান। অর্থাৎ, ট্রাম্প যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে যান, তবে তার আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে আগ্রহী। কারণ নির্বাচিত হলে মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান

৫ মে ২০১৬ তারিখে লন্ডন অ্যাসেম্বলি ও লন্ডনের মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী জ্যাক গোল্ডস্মিথকে ৯ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম মুসলিম হিসেবে লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রার্থী সাদিক খান। সাদিকের প্রাপ্ত ভোট ৪৪ শতাংশ। আর প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যাক পেয়েছেন ৩৫ শতাংশ ভোট। লন্ডনের মেয়র পদে মোট প্রার্থী ছিলেন ১২ জন।

সাদিকের বিজয়কে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা, সাদিক প্রথম মুসলিম এবং প্রথম কোনো অশ্বেতাঙ্গ, যিনি বহুসংস্কৃতির তীর্থখ্যাত এই মহানগরের মেয়র নির্বাচিত হলেন। একজন অভিবাসী বাসচালকের সন্তান হওয়ার কারণেও সাদিকের এমন অর্জন অন্য রকম তাৎপর্য বহন করছে। কনজারভেটিভ দলীয় মেয়র বরিস জনসনের স্থলাভিষিক্ত হবেন সাদিক।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রার্থী সাদিক খান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এবং মুসলিম। তাঁর এই পরিচয়কে হাতিয়ার করে প্রচারণায় নেমেছিলেন জ্যাক গোল্ডস্মিথ। এখন নির্বাচনে হারের জন্য জ্যাকের ওই ‘বিষাক্ত’ প্রচারণাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

একই দিন ইংল্যান্ডের ১২৪টি কাউন্সিলের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হয় প্রাদেশিক সরকার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

দলের প্রভাবশালীদের মতের বিরুদ্ধে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়া বামপন্থী জেরেমি করবিনের জন্য এটা ছিল প্রথম কোনো নির্বাচনী পরীক্ষা। ধারণা ছিল, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার ধরাশায়ী হবে এবং সে অজুহাতে নেতৃত্ব থেকে উৎখাতের শিকার হবেন তিনি। আগের নির্বাচনের চেয়ে ভালো করতে না পারলেও স্থানীয় নির্বাচনে শীর্ষস্থান ধরে রাখায় এ যাত্রায় বেঁচে গেছেন করবিন। বিশেষ করে, দীর্ঘ আট বছর পর সাদিকের হাত ধরে লন্ডনের কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়াকে এ নির্বাচনে লেবার পার্টির সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমালোচকেরা বলছেন, টানা ৬ বছর ক্ষমতায় রয়েছে কনজারভেটিভ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থাকা না-থাকা প্রশ্নে দলটি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত। ২০২০ সালে দলকে ক্ষমতায় ফেরাতে চাইলে এমন পরিস্থিতির সুযোগে করবিনের আরও ভালো করা উচিত ছিল। জবাবে লেবার বলছে, এটা করবিনের লড়াইয়ের সূচনা মাত্র; শেষ নয়। সূত্র: সিএনএন।

/এমপি/