যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের সমন উপেক্ষা করায় বাংলাদেশের এক কূটনীতিককে সস্ত্রীক বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।
বাংলাদেশি কূটনীতিক মনিরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী ফাহিমা তাহসিনা প্রভার বিরুদ্ধে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের গৃহপরিচারককে বিনা বেতনে ও অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হলেও আদালতে হাজিরা দেননি তারা। এর ফলে নতুন করে বিচারের আওতায় এলেন তারা।
গৃহপরিচারক মাসুদ পারভেজ রানার অভিযোগ, তাকে ৩ হাজার ডলার বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজে নিয়োগ দেওয়া হলেও দেড় বছরে কোন বেতন দেওয়া হয়নি। উপরন্তু দিনে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে এমনকি বাড়ি থেকে বের হওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
রানার এই অভিযোগের ভিত্তিতে মনিরুল ইসলাম ও ফাহিমা তাহসিনার বিরুদ্ধে শমন জারি করা হলেও আদালতে হাজিরা দেননি অভিযুক্ত দম্পতি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ডিফল্ট জাজমেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ম্যানহাটন জেলা আদালতের বিচারক সিডনি স্টেইন বলেন, ‘আদালত খুব সহজে ডিফল্ট জাজমেন্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় না। এ ক্ষেত্রে আদালত ১৫ মাস অপেক্ষা করেছে ও অভিযুক্তদের আদালতে এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা বিচারকাজে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে আদালত বাধ্য হয়ে ডিফল্ট জাজমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আরও পড়ুন: দুবাইয়ে বাংলাদেশিকে বন্দি করে নির্যাতন, ৩ ভারতীয়ের কারাদণ্ড
প্রসঙ্গত, মনিরুল ইসলাম নিউ ইয়র্কের সাবেক কনসাল জেনারেল ছিলেন। এ ছাড়াও মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ বছরই জানুয়ারি মাসে ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মনিরুল ইসলামকে।
রানার আইনজীবী এমিলি শেয়া জানান, তার মক্কেল নিজের প্রাপ্য বেতন ও মানসিক নির্যাতনের জন্যে ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের বর্তমান কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স
/ইউআর/বিএ/