কারা বদরেদ্দিনকে হত্যা করেছেন সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত না হওয়া গেলেও সমর্থকদের দাবি ইসরায়েলই এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তবে বদরেদ্দিনের হত্যার ব্যাপারে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে হিজবুল্লাহ।
শুক্রবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বিমানবন্দরের কাছে এক বিস্ফোরণে নিহত হন বদরেদ্দিন। ঘটনার পরই লেবাননের আল-মাইয়াদ্দিন টেলিভিশনের খবরে দাবি করা হয়,ইসরায়েলি বিমান হামলায় বদরেনদ্দিন নিহত হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কমান্ডারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখনও সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়নি।
শনিবার লেবাননের বৈরুতে বদরেদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া সমর্থকদের অনেকেই তাদের নেতার মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলকেই দায়ী করেন। ইসরায়েলর বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেন তারা।
বরাবরের মতোই এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল। এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি তারা।
১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণকারী বদরেদ্দিন হিজবুল্লাহর সামরিক শাখার একজন জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বলে ধারণা করা হয়। তিনি শুরা কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। গোষ্ঠীটির প্রধান হাসান নাসারাল্লাহর উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করতেন তিনি। ২০০৫ সালে বদরেদ্দিনসহ আরও তিন হিজবুল্লাহ সদস্য বৈরুতে লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরিকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হিজবুল্লাহর সামরিক শাখার প্রধান ইমাদ মুগনিয়েহর শ্যালক ছিলেন বদরেদ্দিন। ২০০৮ সালে দামেস্কে এক গাড়িবোমা হামলায় মুগনিয়েহ নিহত হন। কানাডার নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (সিএসআইএস) জিজ্ঞাসাবাদে হিজবুল্লার একজন সদস্য বদরেদ্দিনকে ‘সন্ত্রাসবাদে তার শিক্ষক’ ইমাদ মুগনিয়েহর চেয়েও ‘বেশি বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। মুগনিয়েহ ও বদরেদ্দিন ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই হামলায় ২৪১ জন নিহত হন।
বদরেদ্দিনের নিহত হওয়ার খবর ঘোষণা করে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, “তিনি ১৯৮২ সাল থেকে ইসলামি প্রতিরোধের অধিকাংশ অভিযানে অংশ নিয়েছেন।”
বদরেদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাতেও ছিলেন। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/বিএ/