ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়তে পারে জিকা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এডিস মশার মাধ্যমে জিকা ছড়িয়ে থাকেল্যাটিন আমেরিকাজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া জিকা ভাইরাস আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে প্রাদুর্ভাবের মাত্রা নিম্ন থেকে মাঝারির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও’র পক্ষ থেকে এমন সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
গত বছর ব্রাজিলে মাইক্রোসেফালি বা অস্বাভাবিক আকৃতির মাথা নিয়ে শত শত শিশুর জন্ম হয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এর পক্ষ থেকে বলা হয়, জিকা ভাইরাস থেকে যে মাইক্রোসেফালি হতে পারে সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। চলতি মাসের শুরুর দিকে ব্রাজিলের বিজ্ঞানীরা বলেন, জিকা ভাইরাস নিয়ে তারা আগে যেমনটা ভেবেছিলেন তার চেয়েও এর প্রভাব বেশি ভয়াবহ হতে পারে। জিকার কারণে কেবল মাইক্রোসেফালিই নয়, মস্তিষ্কে আরও বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
গত বছর প্রথমবারের মতো ব্রাজিলে শনাক্ত হওয়ার পর এরইমধ্যে বিশ্বের ৫০টি দেশে জিকা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ডব্লিউএইচও এবার সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপেও জিকা ছড়িয়ে পড়তে পারে। ঝুঁকির মাত্রাকে খাটো করে দেখার উপায় নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: 'প্রাথমিক ধারণার চেয়েও বেশি ভয়াবহ জিকা ভাইরাস'
ডব্লিউএইচও ইউরোপ-এর সতর্কতায় বলা হয়েছে, ইউরোপের দেশ ভেদে ঝুঁকির মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। ম্যাডেইরা দ্বীপ ও রাশিয়ায় কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী এলাকায় অর্থাৎ যেখানে এডিস এজিপ্টি মশার প্রাদুর্ভাব রয়েছে সেখানে ঝুঁকির মাত্রা বেশি। তবে, ১৮টি দেশে এডিসের ভিন্ন প্রজাতির মশার কারণে সেখানে ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। কেননা, এডিস এজিপ্টি মশা যত দ্রুত জিকা ভাইরাস ছড়াতে পারে, এডিস এলবোপিকটাস প্রজাতির মশা এতো তাড়াতাড়ি ভাইরাসটি ছড়াতে পারে না।

জিকা ভাইরাসের কারণে অস্বাভাবিক আকৃতির মাথা নিয়ে শিশুর জন্ম হতে পারে
মাঝারি মাত্রার ঝুঁকির তালিকায় থাকা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও রয়েছে। এর জন্য শহর এলাকার ঘনবসতিসহ বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করেছে ডব্লিউএইচও ইউরোপ। ফ্রান্স ছাড়াও মাঝারি মাত্রার ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে, ইতালি, মাল্টা, ক্রোয়েশিয়া, ইসরায়েল, স্পেন, মোনাকো, স্যান ম্যারিনো, তুরস্ক, গ্রিস, সুইজারল্যান্ড, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়া, জর্জিয়া, আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং মন্টিনিগ্রো। যুক্তরাজ্যে ঝুঁকির মাত্রা কম।
আরও পড়ুন: সৌদি আপত্তি সত্ত্বেও মার্কিন সিনেটে ৯/১১ বিল পাশ

জিকা ভাইরাস মোকাবিলায় শিগগিরই কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর অনেকেরই ভাইরাসটি মোকাবিলার সক্ষমতা থাকায় এসব দেশে ঝুঁকির মাত্রাকে নিম্ন থেকে মাঝারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

জিকা ভাইরাস সর্বপ্রথম ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় রেসাস ম্যাকাক নামের বানরের দেহে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে উগান্ডা ও তানজানিয়াতে মানবদেহে প্রথমবারের মতো ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে ব্রাজিলে ব্যাপক আকারে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ব্রাজিলের পর ল্যাটিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশসহ যুক্তরাষ্ট্রেও শনাক্ত হয় জিকা। তবে সিডিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে যারা জিকা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন তারা জিকাপ্রবণ দেশ ভ্রমণ করে এসেছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিকভাবে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এফইউ/