‘রাজনৈতিক ইসলাম’ বর্জন করছে তিউনিশিয়ার শীর্ষ ইসলামপন্থী দল

nonameতিউনিশিয়ার ইসলামপন্থী দল এনাহদা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পৃথক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার দলটির প্রধান নেতা র‍্যাচেড ঘানাওচি রাজনৈতিক ইসলাম থেকে বের হয়ে আসার ঘোষণা দেন।
এনাহদা তিউনিশিয়ার প্রথম ইসলামপন্থী দল। দলটির এখনকার শীর্ষ নেতা র‍্যাচেড ঘানাওচি ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবীরা মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৮১ সালে ইসলামিক টেনডেনসি মুভমেন্ট গড়ে তোলেন। ১৯৮৯ সালে সেই মুভমেন্টই এনাহদা পার্টিতে পরিণত হয়। ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর দলটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। তিউনিশিয়ার একনায়ক নেতা জাইন এল-আবিদিন বেন আলি জনমত ও বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হলে সে সময় গঠিত জোট সরকারে যোগ দেয় এনাহদা।
আনাহদার নেতা র‍্যাচেড ঘানাওচি বৃহস্পতিবার পার্টির সম্মেলনে রাজনৈতিক ইসলাম থেকে বের হয়ে আসার ঘোষণা দেন। ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্ম থেকে রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামকে পৃথক রাখবো ও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে এগিয়ে যাবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি আধুনিক রাষ্ট্র ভাবাদর্শ, বড় বড় শ্লোগান ও রাজনৈতিক কোন্দল দিয়ে চলে না, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিয়ে চলে।’
এনাহদার ইসলামপন্থা থেকে সরে আসার পেছনে রয়েছে তিউনিশিয়ার আরব বসন্তের প্রভাব। সে সময় তারা উপলব্ধি করতে সমর্থ হন, ভাবাদর্শগত সংগ্রামের চেয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসকের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ অনেক কার্যকরী। এনাহদার নেতা র‍্যাচেড ঘানাওচি তাই বলেন, ‘এনাহদা আত্মপরিচয়ের সংগ্রামে ভাবাদর্শগত আন্দোলন থেকে সরে আসতে চাইছে। এখন তাদের লক্ষ্য কর্তৃত্ববাদী শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আন্দোলন। আর এখন থেকে এনাহদা একটি জাতীয় গণতান্ত্রিক দল।’ 

বিশেষজ্ঞদের মতে রাজনৈতিক ইসলাম যে সব সংকট মোকাবেলা করছে তা এড়ানোর জন্যই এনাহদার এই সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটি ক্রমে আগামী বছরের স্থানীয় নির্বাচন ও ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

আরব বসন্তের সময়ে জাইন এল-আবিদিন বেন আলির বিরুদ্ধে সফল আন্দোলনে অংশীদারত্ব ছিল এনাহদার। সে সময় আন্দোলনের বেশ কিছু নেতাকে কারাদণ্ড ও নির্বাসনদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়াও এই দলে রয়েছে রক্ষণশীল আর উদারপন্থীদের বিভক্তি। পাশাপাশি দুই বিরোধী দলীয় নেতা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এক সংকটে কনজারভেটিভ সালাফিস্টদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হয় এনাহদা। সূত্র: আল জাজিরা, চ্যানেল নিউজ এশিয়া

/ইউআর/বিএ/