উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি যায়। এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার গ্রাহকের নাম ভুল করায় শ্রীলংকায় আটকে যায়, পরে তা ফেরত আনা হয়। বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার যায় ফিলিপাইনের একটি বেসরকারি ব্যাংকে। সেখান থেকে ক্যাসিনো হয়ে হংকংয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় ওই অর্থ। এই অর্থ লোপাটের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করছে একাধিক সংস্থা। তবে এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যে কৌশলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি হয়েছে, একই কৌশলে ২০১৩ সালে সোনালী ব্যাংকের অর্থও চুরি করা হয়। ওই সময়েও সুইফট কোড ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের ভুয়া অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এখন ওই বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
সোনালী ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থ চুরিতেও আন্ত:ব্যাংক লেনদেনের বৈশ্বিক সংগঠন সুইফটের কোড ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই সময় বিষয়টি সুইফটকে জানানোও হয়েছিল। তবে তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সোনালী ব্যাংকের একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, তুরস্কে পাচার হওয়া ওই অর্থের কোনও হদিস পাওয়া যায়নি এখনও।
সোনালী ব্যাংকের প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড জানতে সোনালী ব্যাংকের কমপিউটারে সফটওয়্যার বসিয়ে রেখেছিল। এরপর সেই পাসওয়ার্ড দিয়ে সুইফটের কাছে ভুয়া বার্তা পাঠানো হয়।
পুলিশ সে সময় এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে পরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত রয়টার্সকে বলেন, ‘ হামলাকারীরা ছিল বড় একটি গোষ্ঠী। আমরা কোনও অর্থ উদ্ধার করতে পারিনি। আসলে ঠিক কী ঘটেছিল তাও জানি না আমরা।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সোনালী ব্যাংক ও রিজার্ভের অর্থ চুরিতে যোগসূত্র আছে কি না তা খুঁজে পেতে তদন্ত চলছে। সূত্র: রয়টার্স
/বিএ/