পাঠ্যবইতে ইতিহাস পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে বলে দাবি করছেন ভারতের একদল গবেষক।আইআইটি খড়গপুর ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এক যৌথ গবেষণায় ভারতের প্রাচীন এক সভ্যতা বিষয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক তথ্য উদঘাটন করেছেন।
ওই গবেষকরা দাবি করছেন, সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা সাড়ে ৫ হাজার বছরের পুরানো বলে এতদিন ধরে মনে করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা অন্তত ৮ হাজার বছরের পুরানো।
এই আবিষ্কার খ্যাতিসম্পন্ন পত্রিকা ‘নেচার’ এ প্রকাশিত হয় গত ২৫ মে।এই আবিষ্কারের ফলে বিশ্বজুড়েই মানব সভ্যতার ইতিহাস বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা, মানব সভ্যতার বিকাশের ধারাবাহিকতা ও ক্রম পরিবর্তন করে দিতে পারে এই তথ্য।
আইআইটি খড়গপুরের জিওলজি অ্যান্ড জিওফিজিক্স বিভাগের প্রধান অনিন্দ্য সরকার বলেন, ‘আমরা সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে পুরানো মৃৎপাত্র খুঁজে পেয়েছি। ‘অপটিক্যালি স্টিমুলেটেড লুমিনেসিন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই মৃৎপাত্রের বয়স জানা গেছে। এই সভ্যতার বয়স ৬ হাজার বছরের পুরানো হরপ্পা সভ্যতার চেয়েও বেশি।’
আহমেদাবাদের দেক্কান কলেজ এই সভ্যতায় খুঁজে পাওয়া পশুর হাড়, শিং দাঁত ইত্যাদির কার্বন ১৪ বিশ্লেষণে সহয়তা করে। ওই কলেজের গবেষকদের একজন আরতি দেশপাণ্ডে মুখার্জি বলেন, হরিয়ানার ভিরানা ও রাখিগারিতে এক আগে কোন প্রাচীন সভ্যতার খোঁজে খনন চালানো হয়নি। এর আগে পাকিস্তানের কিছু অংশে ও ভারতের ঢোলাভিরা ও কালিবাগানে প্রাচীন হরপ্পা ও মহেঞ্জো দারো সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ভারতে সূর্য দেবতার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ!
এই গবেষকদের বিশ্বাস, সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা পুরো ভারতে বিস্তার লাভ করেছে। হারিয়ে যাওয়া সরস্বতী নদীর তীরে ছিল এই সভ্যতা। তবে এই সভ্যতা সম্পর্কে বেশি জানাশোনা কারোরই ছিল না। এর কারণ হচ্ছে, এতদিন ধরে ব্রিটিশ অভিযাত্রীদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ইতিহাস পাঠ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
/ইউআর/