দাদরি-কাণ্ডে নতুন মোড়

উত্তর প্রদেশে গণপিটুনিতে নিহত আখলাকের বাড়িতে গরুর মাংসই ছিল!

মোহাম্মদ আখলাকগত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের উত্তর প্রদেশের দাদরি এলাকায় গরুর মাংস সংরক্ষণের গুজবে মোহাম্মদ আখলাক নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী। মাংসগুলো আসলেই গরুর মাংস কিনা তা পরীক্ষা করতে সে সময় স্থানীয় একটি ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে পুলিশ জানিয়েছিল আখলাকের বাড়ির ফ্রিজে যে মাংস সংরক্ষিত ছিল তা গরু নয়, খাসির মাংস। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য মাংসগুলো মাথুরার একটি সরকারি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার ৮ মাস পর মঙ্গলবার সে মাথুরা ল্যাবের ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে মাংসগুলো গরুরই ছিল। নতুন এই রিপোর্টের কারণে দাদরি কাণ্ড নিয়ে ফের এক বিতর্ক তৈরি হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আখলাকের পরিবারের অভিযোগ, নতুন রিপোর্টটি রাজনৈতিক।
উল্লেখ্য, গতবছর ২৮ সেপ্টেম্বর ৫০ বছর বয়সী আখলাককে বাড়ি থেকে বের করে এনে পিটিয়ে মেরে ফেলে গ্রামের লোকজন। বেধড়ক মারা হয় আখলাকের ছেলে দানিশকেও। ওই ঘটনায় এলাকার এক বিজেপি নেতা সহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রধান জাভেদ আহমেদ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা মাংসগুলো খাসির মাংস বলে উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু এখন ল্যাব রিপোর্টে বলা হচ্ছে সেগুলো গরুর মাংস।’
নতুন রিপোর্টকে অস্বীকার করেছে আখলাকের পরিবার। আখলাকের ভাই মোহাম্মদ চাঁদ বলেছেন, ‘প্রথমে দাদরি পুলিশ বলেছিল ওই মাংস খাসির। এখন বলছে গরুর। এসবই রাজনীতি করার জন্য বলা হচ্ছে।’

তবে পুলিশ বলছে, নতুন রিপোর্টটির কারণে হত্যা মামলার গুরুত্ব কমবে না। কেননা, উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ নয়, কেবল গরু জবাই করা নিষিদ্ধ।

আখলাক হত্যার উদ্দেশ্য জানতেই পরীক্ষাটি করানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।

আগামী বছর উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা চলছে সে সময়ই নতুন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো। দাদরি কাণ্ডের পর গোটা ভারতজুড়েই আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিজেপি ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিরোধীরা। সূত্র: এনডিটিভি

/এফইউ/