কথিত সতীত্ব পরীক্ষায় ব্যর্থ স্ত্রী, বিয়ের তৃতীয় দিনে বিচ্ছেদ চাইলেন স্বামী

বাসর রাতে সতীচ্ছদ ছিঁড়ে রক্তপাত না হওয়ায় বিয়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচ্ছেদ চেয়েছেন ভারতের এক নববিবাহিত পুরুষ। গ্রামের পঞ্চায়েতও সমর্থন জানিয়েছে সেই সিদ্ধান্তে। ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার এই ঘটনায় পুরো রাজ্য জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যপক আলোড়ন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া ডট কমের খবর থেকে এসব কথা জানা গেছে।

গত ২২ মে এই বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পঞ্চায়েত প্রধান নবদম্পতিকে একটি সাদা চাদর দিয়ে পরদিন সেটি ফিরিয়ে দিতে বলেন। ফুলশয্যার পরদিন সেই সাদা চাদরে কোন রক্তের দাগ দেখতে না পেয়ে বর ও পঞ্চায়েত নববধূকে অসতী হিসেবে চিহ্নিত করে ও বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়।

marriage12-580x395

এদিকে, মেয়েটির পরিবার দাবি করে, তাদের কন্যা পুলিশ বাহিনীতে চাকরির চেষ্টা করছিলেন। সে কারণে তাকে নানা রকম শারিরীক কসরতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।ফলে তার সতীচ্ছদ আগেই ছিঁড়ে গিয়ে থাকতে পারে।

তারা ছেলের বাড়ি ও পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ৪৭’ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে : অরুন্ধতী

উল্লেখ্য, পৃথিবীর নানা অংশেই নারীর কুমারীত্ব পরীক্ষা করার জন্য বিবাহ বাসরে সাদা চাদর বিছিয়ে রক্তের দাগ খোঁজা হতো। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে কুমারীত্বের সঙ্গে সতীচ্ছদ বা হাইমেনের কোন সম্পর্ক নেই।  বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রেই সতীচ্ছদ কিশোরী বয়সে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়েই ছিঁড়ে যায়। এমনকি অনেক নারী সতীচ্ছদ ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে আরও জানা যায়, বিবাহের পর প্রথম সহবাসে অনেক নারী যে তীব্র ব্যাথাবোধ করেন বা নারীর যোনী থেকে যে রক্তপাত হয় তা কোনভাবেই সতীচ্ছদ ছেঁড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং অনেকটাই মানসিক ও ভীতিজনিত। প্রকৃতপক্ষে সতীচ্ছদ ছিঁড়লে উল্লেখযোগ্য কোন ব্যথাবোধ হয় না।  

সূত্র:  ইন্ডিয়া.কম, ইয়োরট্যাঙ্গো

/ইউআর/বিএ/