গবেষণাপত্র চুরি করায় ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হত্যা করেন মৈনাক!



ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্দুকধারীর নাম মৈনাক সরকার বলে জানিয়েছে পুলিশযুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অধ্যাপককে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যাকারী বন্দুকধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তার নাম মৈনাক সরকার বলে জানানো হয়েছে। অধ্যাপক ক্লুগের ওপর পুরনো ক্রোধ থেকেই মৈনাক তাকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি তার ব্লগের লেখা থেকে তেমন ইঙ্গিত মিলেছে। এদিকে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মৈনাক সরকার একজন বাঙালি। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুর আইআইটির সাবেক শিক্ষার্থী।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলবিদ্যা বিভাগের একটি অফিস কক্ষে দুটি মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, নিহতদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ও এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম ক্লুগ। আরেকজন মৈনাক সরকার। এ মৈনাক সরকারই অধ্যাপককে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন। লস অ্যাঞ্জেলস-এর পুলিশ প্রধান শার্লি বেক সাংবাদিকদের জানান, ‘একইসঙ্গে একটি হত্যা ও একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া আরেকটি নোট উদ্ধার হয়েছে যা সুইসাইড নোট হতে পারে।’
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, উইলিয়াম ক্লুগ নামে যে অধ্যাপককে খুন করেন মৈনাক, তার তত্ত্বাবধানেই পিএইচ ডি করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি, উইলিয়ামের বিরুদ্ধে তার কম্পিউটার কোড চুরি করে গবেষণাপত্র হাতিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মৈনাক। নিজের ব্লগে মৈনাক লেখেন, ‘কাউকে বিশ্বাস করার আগে হাজারবার ভাবুন। অধ্যাপক উইলিয়াম ক্লুগ সম্মান পাওয়ার যোগ্য নন।’ এরপরই হামলা করেন মৈনাক৷ নিজেও আত্মঘাতী হন৷
উইলিয়াম ক্লুগ
পুলিশের ধারণা, পুরনো ক্রোধ থেকেই অধ্যাপক উইলিয়াম ক্লুগকে হত্যা করেন মৈনাক। তবে ক্লুগ আসলেই গবেষণা পত্র চুরি করেছিলেন কিনা তার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্লুগের সহকর্মীদের দাবি, তিনি খুব বিনয়ী স্বভাবের মানুষ ছিলেন।
এদিকে মৈনাকের লিঙ্কড ইন প্রোফাইল ঘেঁটে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালে আইআইটি খড়গপুর থেকে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করেন তিনি। ২০০০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বেঙ্গালুরুতে ইনফোসিসে চাকরি করেন মৈনাক। ২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এরোনটিক্স ও অ্যাস্ট্রোনটিক্সে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা। কাজ করেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসেও। ইউসিএলএ-তে পিএইচডি শেষ করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওহিও’র একটি সংস্থায় চাকরি করতেন। তবে ইদানীং তিনি কী করছিলেন, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে থাকে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর হামলার পর সেদিনের জন্য সকল ক্লাস বাতিল করে দেওয়া হয়। অবশ্য পরে বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে ক্লাস শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি, আনন্দবাজার, এবিপি আনন্দ

/এফইউ/