মুসলিম ও বিশ্বজনীন পরিচয়ের সম্মিলন ঘটবে আলীর 'ভিন্নধারা'র শেষকৃত্যে

nonameমোহাম্মদ আলীর শুক্রবারের শেষকৃত্যটি হবে ভিন্নধারার। কেননা শেষকৃত্যটি মুসলিম রীতিতে হলেও সেখানে সব ধর্মের মানুষের প্রবেশাধিকার থাকবে। কেননা মুসলমান আত্মপরিচয়ের প্রতি আলীর যে অঙ্গীকার ছিল, একই সেই অঙ্গীকার ছিল বিশ্বজনীন পরিচয়ের প্রতিও। নিজেকে বিশ্ব-নাগরিক ভাবতেন তিনি।
শেষকৃত্যেও তাই আলীর বৈশ্বিক পরিচয় এবং মুসলিম আত্মপরিচয়ের সম্মিলন ঘটবে। জানাজা হবে, দাফন হবে, অতপর ইসলামের বিধান অনুযায়ীই সমাহিত হবেন তিনি। তবে সেখানে থাকবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সব ধর্মের মানুষ। এভাবেই আলীর মুসলিম আত্মপরিচয়ের সঙ্গে সম্মিলিত হবে তার বিশ্বজনীনতা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা পারিবারিক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানান, আলীর নিজস্ব ধারণা আর বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই শেষকৃত্যের এই পরিকল্পনা। শেষকৃত্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অভিনেতা বিলি ক্রিস্টাল ও সাংবাদিক ব্রায়ান্ট গাম্বেলসহ অংশ নেবেন অনেকে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলে নিজের শহরে মোহাম্মদ আলীর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ভয়েস অব আমেরিকার খবরে বলা হয়েছে, শেষকৃত্যের আগে তাঁর মরদেহ শবাধারে করে নিজস্ব শহর লুইসভিলে নেওয়া হবে। শুক্রবার (১০ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে শহরের কেএফসি ইয়োম সেন্টারে দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। অনুষ্ঠানটি অনলাইনে বিভিন্ন ভাষায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ লুই ভিলের ইয়াম স্টোরে রাখা হবে, যেখানে শুরু হয়েছিল তাঁর অ্যামেচার বক্সিং জীবনের সুচনাI 

শুক্রবারই তাকে কেভ হিল কবরস্থানে সমাহিত করার কথা রয়েছেI

শেষকৃত্য সম্পর্কে তার পরিবারের মুখপাত্র বব গানেল জানান, মোহাম্মদ আলীর ইচ্ছানুযায়ী তার  দাফন হবে। ইসলামিক নিয়মে এই শেষকৃত্য হলেও এতে ধর্ম-মত-নির্বিশেষে সবাই অংশ নিতে পারবেন। কেননা ‘আলী ছিলেন বিশ্বনাগরিক। তিনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে মানুষের সাহচার্য পছন্দ করতেন।’ সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা, বিবিসি, গার্ডিয়ান, ইউএস টুডে 

/বিএ/