গত ২১ মে আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে মার্কিন ড্রোন হামলায় সাবেক শীর্ষ নেতা মোল্লা আখতার মনসুর নিহত হন। এর পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা হাবাইতুল্লাহ আখন্দজাদাকে প্রধান নেতা নির্বাচন করা হয়। ২৫ মে তালেবানের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় নেতারা এক বৈঠকে মিলিত হয়ে মোল্লা হাবাইতুল্লাহ আখন্দজাদাকে নতুন নেতা নির্বাচন করেন। অন্যদিকে ২০১১ সালে আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর জাওয়াহিরিকে সংগঠনটির প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত অঞ্চলবর্তী কোনও এলাকায় লুকিয়ে আছেন বলে মনে করা হয়ে থাকে। মাঝে মাঝেই তার নামে অনলাইনে অডিও ও ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। গত বছর এক অডিও বার্তায় মোল্লা আখতার মনসুরের প্রতিও আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
ডন জানায়, ১৪ মিনিটের নতুন ওই অডিও বার্তায় জাওয়াহিরি বলেন, ‘জিহাদের সংগঠন আল কায়েদার নেতা হিসেবে আমি আবারও আমার আনুগত্য প্রকাশ করছি। ইসলামিক আমিরাতের জন্য সমর্থন দিতে মুসলিমদের এভাবেই আহ্বান জানাতেন ওসামা।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন আফগানিস্তানে ইসলামিক আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেছিল তালেবান।
সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের প্রভাব বিস্তারের কারণে নিজেদের প্রভাব খুইয়েছে আল কায়েদা। কিছু সংখ্যক বিদ্রোহী আফগান কমান্ডারও তালেবান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আইএসের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে হামলার পর আল কায়েদার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে আল কায়েদা ও তালেবান এ দুটি গোষ্ঠীই আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়। তার আগ পর্যন্ত তালেবানের অধীনেই ছিল আল কায়েদা। সূত্র: ডন
/এফইউ/