এর আগে ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্কুলে এ অস্ত্রটি ব্যবহার করে ২৬ জন শিশু ও বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়। আর গত রবিবার মধ্যরাতে অরল্যান্ডোর পালস নাইটক্লাবে এ অস্ত্র ব্যবহার করে আবারও ৫০ জনকে হত্যা করেন ওমর মতিন। ওমরের এই ঘটনায় মার্কিনীরা বিস্মিত হয়েছেন।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচারকারীদের দাবি, কোনও সাধারণ মানুষের সেমি অটোমেটিক রাইফেল এআর-১৫ ব্যবহারের আইনি বৈধতা নেই। আকার ও লক্ষ্যবস্তু ভেদের মানদণ্ড অনুযায়ী রাইফেলটি শুধুমাত্র বাড়ির প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে যারা সাধারণ মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা করার পরিকল্পনা করেন তারাই বারবার এ অস্ত্রটি বেছে নিচ্ছেন।
২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী জসহুয়া কসকফ গত রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘অরল্যান্ডোর নাইটক্লাবে নিরাপরাধ সাধারণ মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা খুবই ভয়ানক। যা প্রাণঘাতী এআর-১৫ রাইফেলের ভয়াবহতার প্রমাণ বহন করে। এটা বিস্ময়ের ব্যাপার না যে, বর্তমান শুটাররা এ অস্ত্রটি পছন্দ করছে, এর আগেও তারা এ রাইফেলটি ব্যবহার করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।’
তিনি আরও বলেন, এ রাইফেলটি শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য তৈরি করা হয়। কিন্তু আজকাল এটি খুবই দক্ষতার সঙ্গে সাধারণ মানুষ হত্যায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে কানেকটিকাটের সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এআর-১৫ রাইফেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রেমিংটন আর্মস কোম্পানির’ বিরুদ্ধে মামলার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন একজন বিচারক। সে সময় কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ফেডারেল প্রোটেকশন অব লফুল কমার্স ইন আর্মস অ্যাক্ট অনুযায়ী তারা নিরাপদ। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বন্দুকের ব্যবহারে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা যায়।
ওই বিচারক আরও বলেন,ফেডারেল প্রোটেকশন অব লফুল কমার্স ইন আর্মস অ্যাক্ট কোম্পানিটিকে অস্ত্র বিক্রির আইনি বৈধ্যতা দেয়নি।
উল্লেখ্য, নাইটক্লাবে চালানো ওই সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন নিহত হন। আরও ৫৩ জন আহত হয়েছে ওই ঘটনায়। শনিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো শহরের পালস নাইটক্লাবে ঢুকে গুলি চালান ওমর মতিন নামক এক ব্যক্তি। পরে তিনি নাইটক্লাবে অবস্থান করা লোকজনকে জিম্মি করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, জরুরি সাহায্যের জন্য দেওয়া ৯১১ নম্বরে ফোন করে ওমর নিজেই ওই হামলার কথা জানান। ওমর মতিনের কাছে একটি রাইফেল, একটি পিস্তল এবং দুটি সন্দেহজনক যন্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানায়। স্থানীয় সময় আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে সোয়াতের বিশেষ কমান্ডোরা জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য অভিযান চালান। ওই অভিযানে ওমর মতিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
/এসএনএইচ/এমএসএম /