একমাত্র ইসরায়েলকেই ভয় পায় আইএস!

দুনিয়াজুড়ে এক আতঙ্কের নাম জঙ্গি সংগঠন আইএস। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো শহরে সমকামীদের একটি নাইট ক্লাবে হামলার ঘটনায় ফের সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয় সংগঠনটি। ইরাক, সিরিয়ার বাইরে ইউরোপ-আমেরিকায় একাধিক হামলার দায় স্বীকার করলেও এখনও পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ইসরায়েল ইস্যুতে নীরব আইএস। জঙ্গিদের অধিকৃত অঞ্চলে ঢুকেও ফিরে আসা জার্মান সাংবাদিক জারগেন টোদেনহোফার-এর মতে, পুরো বিশ্বে একমাত্র ইসরায়েলকেই ভয় পায় আইএস।

তিনি বলেন, ‘আইএস মনে করে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারবে। কিন্তু ইসরায়েলিরা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গেরিলা যুদ্ধে অপরাজেয়।’

প্রায় ১০ দিন আইএস নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে কাটান ওই সাংবাদিক। ফিরে আসার পর জিউশ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ওই জার্মান সাংবাদিক।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমি একটি নিষ্ঠুর জঙ্গি দলকে দেখতে পাবো, কিন্তু আমি দেখতে পেয়েছি একটি নিষ্ঠুর রাষ্ট্র।’

ফিলিস্তিনের গাজা সীমান্তে টহলরত ইসরায়েলি ট্যাঙ্কবহর।

আইএসের সঙ্গে মোসাদের সম্পর্কের রসায়ন অবশ্য নতুন কিছু নয়। এমন দাবিও আছে যে, আইএস ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সৃষ্টি। এ জঙ্গিগোষ্ঠীর শীর্ষস্থানীয় নেতারা মোসাদের কাছে প্রশিক্ষিত। মোসাদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেই আইএস জঙ্গিদের ‘যুদ্ধকৌশল’ শেখানো হয়।

সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে সবচেয়ে ধনী সংগঠন বলে পরিচিত আইএসের উত্থান হয় ২০১৪ সালের জুনে। ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ দখলে নিয়ে ইসলামিক স্টেট নাম দিয়ে খেলাফত ঘোষণা করেন আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ-এর মতে, আইএস ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অস্ত্র। বিশ্বব্যাপী নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য এ ভয়ানক সাপকে মাঠে নামিয়েছে তারা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আইএস বিরোধী জোট সিরিয়া ও ইরাকে যুদ্ধ করছে। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সহযোগী ইসরায়েল তাতে অংশ নিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও ইসরায়েল এক্ষেত্রে বিপরীত অবস্থান নিচ্ছে। ইসরায়েল চাচ্ছে না আসাদ সরকারের পতন হোক। একইসঙ্গে ইসরায়েল চায় মধ্যপ্রাচ্যে আইএস যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তা অব্যাহত থাকুক। এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

আইএসের হামলার আশঙ্কায় থাকা দেশগুলোর মতো ইসরায়েলকে উদ্বিগ্ন মনে হয় না। আইএস জঙ্গিদেরও ইসরায়েল সীমান্তে কোনও কর্মকাণ্ড নেই। অবশ্য ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্বে নিজেদের অনাগ্রহের কথা এরইমধ্যে ঘোষণা করেছে আইএস। তারা কেবল সুন্নিদের জন্য একটি পৃথক রাজ্য গঠনেরই ঘোষণা দিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএস ইসরায়েলের জন্য অভ্যন্তরীণ হুমকিরও কারণ নয়। সিরিয়া ও ইসরায়েলের সীমান্তের দেশগুলোতে রাজনৈতিক ও ভৌগলিকভাবে অস্থিতিশীলতা ও গৃহযুদ্ধ বিরাজ করলেও ইসরায়েল তাতে আতঙ্কিত নয়।

এছাড়া ফিলিস্তিনের পক্ষে না দাঁড়ানোর ফলে ইসরায়েল আইএসকে শুধু আরব মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জন্য হুমকি মনে করছে। যার পরিণতিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে। আর ইসরায়েলও পশ্চিমা বিশ্বকে দেখাতে চায় যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র স্থিতিশীল রাষ্ট্র। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের পশ্চিমা সমর্থকরা এগিয়ে আসবে ইসরায়েলের পাশে। আরও শক্তিশালী হবে ইসরায়েল অবস্থান। এসব বিষয় বিবেচনায় আইএসের উত্থান ইসরায়েলের জন্যই লাভজনক। ফলে আইএস যা করছে তা যাতে অব্যাহত থাকে সে চেষ্টাই করবে ইসরায়েল। সূত্র: এবিসি নিউজ, ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স।

/ইউআর/এমপি/