বৃহস্পতিবার দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন জো কক্স। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বিরোধী দল লেবার পার্টির ব্যাটলি অ্যান্ড স্পেন আসনের এমপি ছিলেন তিনি। জো কক্স ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ব্রিস্টলে একটি লাইব্রেরির কাছে গুলিবর্ষণ ও ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই জড়িত সন্দেহে থমাস মায়ারকে আটক করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃহস্পতিবার জো কক্সকে গুলি করে হত্যার আগে ‘পুট ব্রিটেইন ফার্স্ট’ বলে চিৎকার করেছিলেন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া থমাস মায়ার। তাও আবার একবার নয়, তিন বার চিৎকার করেছিলেন তিনি।
এক বিবৃতিতে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের পুলিশ জানিয়েছে, মায়ারের বিরুদ্ধে হত্যা, যন্ত্রণাদায়কভাবে শরীরে আঘাত এবং আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়েছে, গত বছর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে এক নারী এমপি চিঠি লিখে নিজের ওপর হামলার খবর জানিয়েছিলেন এবং সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ক্যামেরনের পক্ষ থেকে ওই চিঠির জবাবে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সে সময় সরকারিভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই এমপি এবং তার পুলিশ বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই এমপির জন্য জানুয়ারিতে নতুন ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল।’
জো কক্সের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত মায়ার ব্রিটেন ফার্স্ট বলে চিৎকার করেছিলেন বলে কট্টর জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সংগঠন ব্রিটেন ফার্স্টকেও তদন্তের আওতায় রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ। অবশ্য অভিযোগ নাকচ করে ব্রিটেন ফার্স্ট বলছে, এ হত্যাকাণ্ডে তাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। জো কক্স হত্যার নিন্দাও জানিয়েছে দলটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, অতীতে মায়ারের মানসিক অসুস্থতার রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার ছোট ভাই। মায়ারের ছোট ভাই জানিয়েছেন, সাইকোথেরাপি (মনোসমীক্ষার) ও মেডিটেশনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান
/এফইউ/বিএ/