নিহত ব্রিটিশ এমপির স্বামীর সঙ্গে ওবামার ফোনালাপ

বারাক ওবামা (ফাইল ফটো)দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত ব্রিটিশ লেবার এমপি জো কক্সের স্বামী ব্রেন্ডেন কক্সকে ফোন করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ব্রিটিশ এমপি নিহত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার ব্রেন্ডেনকে ফোন করে ওবামা খোঁজখবর নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউজ।
বৃহস্পতিবার দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন জো কক্স। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বিরোধী দল লেবার পার্টির ব্যাটলি অ্যান্ড স্পেন আসনের এমপি ছিলেন তিনি। জো কক্স ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ব্রিস্টলে একটি লাইব্রেরির কাছে গুলিবর্ষণ ও ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে থমাস মায়ার নামে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করে। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার জো কক্সের স্বামী ব্রেন্ডেনকে ফোন করেছেন ওবামা। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন জনগণের পক্ষ থেকে ব্রেন্ডেন কক্স ও তার দুই সন্তানের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ওবামা। একইসঙ্গে জো কক্সের বন্ধু, সহকর্মী এবং সংগঠকদের প্রতিও সমবেদনা জানানো হয়েছে।’
ব্রেন্ডেন কক্স ও জো কক্স
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অন্যদের প্রতি জো কক্সের স্বার্থহীন সেবার কারণে বিশ্ব অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের জন্য কারও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই। এটি সে ধরনের জঘন্য অপরাধ যা একটি পরিবার, একটি কমিউনিটি এবং একটি জাতির কাছ থেকে একজন উৎসর্গীকৃত স্ত্রী, মা ও সরকারি চাকুরিজীবী ছিনিয়ে নিয়েছে।’

এর আগে জো কক্স-এর মৃত্যুর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভালোবাসা দিয়ে ঘৃণাকে রুখে দেওয়ার ডাক দেন ব্রেন্ডেন কক্স।
বিবৃতিতে ব্রেন্ডান পারিবারিক বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আজ আমাদের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। জীবনের এই পর্ব আরও কঠিন, আরও শোকাতুর, উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসার অভাববোধে ভারাক্রান্ত।’
ওই বিবৃতিতে ব্রেন্ডান জানান, তিনি এবং এমপি জো’র বন্ধুরা মিলে  জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের সন্তানদের ভালোবাসা ও সুশিক্ষার কথা চিন্তা করবেন। ভালোবাসার শক্তি নিয়ে লড়াই করবেন সেই ঘৃণার বিরুদ্ধে যা জো’কে খুন করেছে।
বিবৃতিতে ব্রেন্ডান বলেছেন, ‘ঘৃণার কোনও ধর্ম-বর্ণ কিংবা জাতি নেই। ঘৃণা মাত্রই তা বিষাক্ত’। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য টেলিগ্রাফ
/এফইউ/