সিরিয়ার দামেস্কে জন্মগ্রহণকারী ফিলিস্তিনি ব্লগার সেলিম সালামাহ জো কক্সের প্রশংসা করে একটি ব্লগ লিখেছেন। তিনি বলেন, ‘সিরীয়রা আজ কেবল একজন বন্ধুই হারায়নি, তাদের গুটিকয়েক ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজনকে হারিয়েছে।’
সেলিম সালামাহ বলেন, ‘অনেক সিরীয় জো কক্সের স্বামী ও সন্তানদের প্রতি তাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সমবেদনা জানিয়েছেন।’
রাইম আলাফ নামে এক সিরীয় লেখক জানিয়েছেন তার দেশের মানুষ টুইটারে জো কক্সের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। ‘মে ইউ রেস্ট ইন পিচ’ নামে সে শ্রদ্ধা নিবেদন চলবে বলেও জানান তিনি।
সিরীয় অ্যাক্টিভিস্ট রিম আসিল বর্তমানে ক্যামব্রিজে থাকেন। জো কক্সের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সিরিয়া, সিরিয়াবাসী এবং বিশেষ করে ব্রিটিশ সিরিয়ান এনজিওগুলো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে থাকা তাদের সেরা বন্ধুকে হারিয়েছে।’
সিরিয়ার আলেপ্পোতে বাড়ি করিম জিয়ানের। তিনি এখন ম্যানচেস্টারে থাকেন। জো কক্সের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে করিম বলেন, ‘তার মৃত্যু সিরিয়াবাসীর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি সিরিয়ার জনগণের জন্য একজন সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। যখন সিরীয়দের কোনও ব্রিটিশ এমপির নাম বলতে বলা হবে যার ওপর নির্ভর করা যায়, তখন সবাই জো কক্সের নামটিই মনে করে।’
সিরিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ইয়র্কশায়ার, স্কটল্যান্ড ফর সিরিয়া এবং দ্য সিরিয়ান ওয়েলশ সোসাইটিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন জো কক্সের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে। সিরিয়া সংকটের ক্ষেত্রে জো কক্সের দৃষ্টিভঙ্গিকে নৈতিক ও বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। বলা হয়েছে, ‘আমরা তার শূন্যতা গভীরভাবে অনুভব করব।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সহায়তাকারী সংগঠন সিরিয়া সলিডারিটি ইউকের সদস্যদের মতে, ‘জো কক্সের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানবতা এক চ্যাম্পিয়নকে হারিয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন জো কক্স। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বিরোধী দল লেবার পার্টির ব্যাটলি অ্যান্ড স্পেন আসনের এমপি ছিলেন তিনি। জো কক্স ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ব্রিস্টলে একটি লাইব্রেরির কাছে গুলিবর্ষণ ও ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে থমাস মায়ার নামে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করে। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি, ইন্ডিপেনডেন্ট
/এফইউ/