শুক্রবার ভেলভেট ইন্ডিগ্রাউন্ড রেকর্ড নামের ওই দোকানে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে ব্রিটিশ রক ব্যান্ড রেডিওহেডের গান শুনছিলেন ভক্তরা। হঠাৎ করে এক দল লোক এসে জোর করে দোকানে ঢুকে পড়ে এবং সেখানকার লোকজনের সঙ্গে চিৎকার করতে থাকে। রমজান মাসে তারা কেন অ্যালকোহল নিচ্ছে এবং গান শুনছে তা জানতে চায়। এক পর্যায়ে দোকানের গ্রাহক ও কর্মীদেরকে পাইপ দিয়ে পেটাতে শুরু করে তারা। অবশ্য ওই ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার ওই দোকানের কাছে অবস্থান নেন শত শত বিক্ষোভকারী। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই শুরুর আহ্বান জানান তারা। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানকে ‘চোর’ এবং ‘খুনি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। পরে জলকামান আর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। সে সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ডিপিএ নিউজ। তবে পুলিশের ওই অভিযানে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা চলছে। যেখানে হামলা হয়েছে তার পার্শ্ববর্তী জায়গার নাম ফিরুজাগা। শনিবার থেকে টুইটারে #ফিরুজাগা হ্যাশট্যাগে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। অনেকে হামলাকারীদের ‘অসহিষ্ণু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে নিজেদের ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনাকে সহিংস অসহিষ্ণুতামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে রেডিওহেড। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইস্তাম্বুলের ভেলভেট ইন্ডিগ্রাউন্ডে যারা হামলার শিকার হয়েছেন তাদের জন্য আমরা ব্যথিত। আমরা আশা করছি, কোনও একদিন হয়তো এ ধরনের সহিংস অসহিষ্ণুতামূলক কর্মকাণ্ডকে সবাই প্রাচীন যুগের ইতিহাস বলে বিবেচনা করতে সক্ষম হবে। তবে আপাতত আমাদের ইস্তাম্বুলের ভক্তদের জন্য ভালোবাসা আর সমর্থন থাকলো।’
/এফইউ/