ইউটিউবে কবিতা প্রকাশ করে ইসরায়েলে বিচারের মুখোমুখি ফিলিস্তিনি কবি

31b76844cd2d4f3ab0424ff57c861779_18

দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইউটিউবে কবিতা প্রকাশ করে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে কবি দারিন তাতুরকে। ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সমর্থন জানানো ও সহিংসতাকে উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগে ফিলিস্তিনি এ কবিকে অভিযুক্ত করেছে ইসরায়েল।

দারিন তাতুরকে গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এর আগে তাকে ইসরায়েলের কিরিয়াত ওনো নগরে নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি করে রাখা হয়।  ২০১৫ সালের  নভেম্বরে তাকে ‘সহিংসতার উস্কানি দেওয়া ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সমর্থন’ জানানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।

তাতুর তার ফেসবুক ও ইউটিউব পেজে নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তির ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ খানিকটা পরিবর্তন করে ইউটিউব অ্যাকাউন্টের পোস্টকে প্রধান হিসেবে দেখানো হয়। তার কবিতার শিরোনাম ছিল, ‘প্রতিরোধ কর হে আমার মানুষেরা, প্রতিরোধ।’

আরও পড়ুন: শরণার্থী সংখ্যায় নতুন রেকর্ড

সেই ভিডিওতে তিনি ধীরগতিতে উচ্চস্বরে কবিতাটি আবৃত্তি করেন ও চালচিত্রে ইসরায়েলের পুলিশের সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের দ্বন্দ্বের ছবি দেখানোর চেষ্টা করেন।

তাতুর বলেন, ‘আমি কোনদিনও ভাবিনি লেখালেখির জন্য আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই ৬০ এর দশকে মোহাম্মদ দারউইশের মতো কবিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এদেশে এমন হবে ভাবিনি। আমি জানতাম না ইসরায়েলের গণতন্ত্র সবার জন্য নয়।’   

তাতুর শৈশব থেকেই লেখালেখি শুরু করেন এবং ২০১০ সালে তার প্রথম বই প্রকাশিত হয়। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ফিলিস্তিনি জীবন সম্পর্কে সবকিছুই লিখেছি। রাজনীতি, সামাজিক জীবন, নারী ও শিশু ও আবেগ। একজন মানুষের যে সব অনুভূতি থাকতে পারে তার সবই আমি লিখেছি।’  

আরও পড়ুন: ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলার’ নীলনকশা নস্যাৎ করেছে ইরান

তাতুর জানান, তিনি কারাগারের ভেতরেও লিখে যাচ্ছেন নিজের সমস্ত অভিজ্ঞতা। এর আগে তিনি ইসরা আবেদ নামের এক নারীর ছবি অনলাইনে পোস্ট করে লেখেন, ‘আমি এর পরের লক্ষ্য।’

তাতুর তার এই পোস্টকে ব্যখ্যা করেছেন এভাবে, মানসিক ভারসাম্যহীন ইসরাকে যেমনভাবে ছুড়ি হাতে আক্রমণ করার অভিযোগ করা হয়েছে, তাতে বোঝা যায় যে কোনও ফিলিস্তিনিই যে কোনও সময় নিহত হতে পারেন। পরে ইসরা নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়। সূত্র: আল জাজিরা।

/ইউআর/এএ/