ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা ইইউ হলো ২৮টি সদস্য রাষ্ট্রবিশিষ্ট একটি অর্থনৈতিক জোট। কেবল জোটই নয়,বলা চলে এটি মুক্ত-বাণিজ্য অঞ্চলের চেয়েও বেশি কিছু। ইইউ’র জিডিপি ১৮ হাজার বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি। প্রতিষ্ঠার পর গত অর্ধ শতকেরও বেশি সময় ধরে ইইউ স্বাতন্ত্র্য বাড়িয়েছে। আলাদা করে গড়ে তুলেছে ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস। আর ব্রেক্সিট হলো ব্রিটিশ এক্সিটের সংক্ষেপিত রূপ। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তথা এক্সিট বোঝাতে ব্রেক্সিট শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আর এ ব্রেক্সিট হবে নাকি হবে না সে প্রশ্নে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
‘ইউরোস্কেপটিসিজম বিয়ন্ড ব্রেক্সিট’ নামের ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছর ধরে ইউরোপের দেশগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাবমূর্তির উত্থান-পতন হচ্ছে। ২০১২ ও ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতিতে ধস নামার পর ব্রাসেলসভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটির জনপ্রিয়তা কমেছে। বর্তমান সময়ে আবারও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ছয়টি দেশের নাগরিকদের ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে ৫টি দেশে ইইউ-এর জনপ্রিয়তা কমেছে। ফ্রান্সে ১৭ শতাংশ, স্পেনে ১৬ শতাংশ, জার্মানিতে ৮ শতাংশ যুক্তরাজ্যে ৭ শতাংশ এবং ইতালিতে ৬ শতাশ জনপ্রিয়তা কমেছে। ফ্রান্সের ৩৮ শতাংশ মানুষ ইইউকে সমর্থন করেন। আর যুক্তরাজ্যে ইইউকে সমর্থন করেন ৪৪ শতাংশ মানুষ।
কোন বয়সের মানুষরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সমর্থন করেন তা জানতে ১০টি দেশের ওপর জরিপ চালানো হয়। এরমধ্যে ৬টি দেশের ১৮-৩৪ বছর বয়সী তরুণরা ইইউকে পঞ্চাশোর্ধ বয়সের মানুষদের চেয়ে বেশি পছন্দ করেন। দুই প্রজন্মের মধ্যে পছন্দের ব্যবধান বেশি ধরা পড়েছে ফ্রান্সে। দেশটির ৫৬ শতাংশ তরুণ এবং ৩১ শতাংশ বয়স্করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে থাকেন। ইইউ প্রশ্নে দুই প্রজন্মের পছন্দের এ ব্যবধান যুক্তরাজ্যে ১৯ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ১৬ শতাংশ, পোল্যান্ড এবং জার্মানিতে ১৪ শতাংশ করে এবং গ্রিসে ১৩ শতাংশ। সূত্র: গ্লোবাল রিসার্চ
/এফইউ/