ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের আলাদা না হওয়ার পক্ষে অর্থাৎ ‘রিমেইন’ শিবিরের হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। তবে ব্রিটিশ জনগণের রায় এর বিপক্ষে যাওয়ার পর দলীয় নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন তিনি। লেবার দলের দুই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ করবিনের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। পার্লামেন্টের লেবার দলীয় সংসদ সদস্য ডেম মার্গারেট হজ ও অ্যান কফি গত শুক্রবার পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির (পিএলপি) চেয়ারম্যান জন ক্রায়ারের কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। সোমবার (২৭ জুন) পিএলপির বৈঠকে জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে আস্থা ভোটের ব্যাপারে আলোচনা হবে। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে পরদিন মঙ্গলবার গোপন ব্যালটে আস্থা ভোট হবে কি না।
রবিবার সকালে পদত্যাগ পত্র জমা দেন হাইডি আলেক্সান্ডার। পরে একটি টুইট করেন তিনি। সেখানে হাইডি লিখেছেন, ‘আবেগঘনভাবে আমি আপনাদের জানাচ্ছি যে সকালে আমি ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছি।’
লেবার নেতা জেরেমি করবিন বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে কার্যকরী একটি বিরোধী শক্তি প্রয়োজন যারা সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে ফেলতে পারবে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘নীতিগত দিক দিয়ে আমি আপনাকে অনেক সম্মান করি। আমি বিশ্বাস করি না যে আমাদের দেশে যে ধরনের প্রশ্নগুলো উঠছে সেগুলোর উত্তর দেওয়ার সক্ষমতা আপনার আছে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি একটি নতুন সরকার গঠন করতে চাই তবে নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে আসা আবশ্যক।’
এর আগে ছায়া মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের পদত্যাগে প্ররোচিত করার অভিযোগে মন্ত্রিসভা থেকে ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি বেনকে বরখাস্ত করেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। হিলারির বিরুদ্ধে অভিযোগ, করবিন আস্থা ভোট এড়িয়ে যেতে চাইলে মন্ত্রীরা যেন পদতাগ করেন, সে ব্যাপারে তিনি উসকানি দিচ্ছিলেন।
হিলারি বেন বলেন, জেরেমি করবিনের নেতৃত্ব এবং তার নির্বাচনে জয়লাভ করা নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অর্থাৎ করবিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জয়লাভ করা যাবে কিনা সে ব্যাপারে দলের নেতাদের আস্থা নেই। তিনি বলেন, ‘আমি করবিনকে ফোন করে বলেছিলামা তার উপর আমার আস্থা নেই। কিন্তু তিনি আমার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন।’
এদিকে করবিনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তিনি পদত্যাগ করছেন না। করবিন মনে করেন,ব্রেক্সিট প্রশ্নে জনগণের এই অবস্থান লেবার রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে এসেছে। আবাসনের প্রশ্ন,কর্মসংস্থানগত সুরক্ষার প্রশ্ন,ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রশ্নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিকল্প হাজির করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। করবিন মনে করেন,দলে যারা তার প্রতি অনাস্থা এনেছেন,তাদের সেই কাজ বাদ দিয়ে লেবার রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা পালন করা উচিত।
করবিন মনে করিয়ে দেন, কেবল ক’জন এমপি নয়,দলের তৃণমূল কর্মীদের নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে লেবারদের নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত সরকারের মন্ত্রিসভার বিপরীতে গঠিত হয়। এই ছায়া মন্ত্রিসভার নেতৃত্বে থাকেন বিরোধী দলের নেতা। যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রত্যেকের বিরোধী হিসেবে কাজ করেন ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সরকারের নীতিমালা ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনার দায়িত্ব পালন করে বিকল্প এ মন্ত্রিসভা। বিকল্প প্রস্তাব ও সুপারিশও দিয়ে থাকে তারা। সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান
/এফইউ/