তুরস্কের বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানালেন বান কি-মুন

তুরস্কে ইস্তানবুল শহরের আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন। ওই সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আরও অন্তত ১৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন

জাতিসংঘ মহাসচিব এক বিবৃতিতে তুরস্কে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবার এবং তুর্কি সরকারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন, দ্রুতই তুরস্কের জনগণ এই আঘাত সামলে উঠতে পারবেন।

বিবৃতিতে বান কি-মুন বলেন, তিনি আশা করছেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শনাক্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তিনি তুরস্কের পাশে রয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। বান কি-মুন সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস উগ্রবাদের হুমকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে লড়াইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হতাহত মানুষদের হাসপাতালে নিতে রাখা হয় অ্যাম্বুলেন্স

এদিকে, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম এ হামলার জন্য ইসলামিক স্টেট (আইএস)-কে দায়ী করেছেন। তবে এখনও কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

ওই হামলায় ৩৬ জন নিহতের কথা নিশ্চিত করেছেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী। তাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে তিনি জানান। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। হামলার পর বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। হামলাকারী নিহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দরটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয় বলেও বিনালি ইলদিরিম জানিয়েছেন।

হামলায় ব্যবহৃত কালাশনিকভ

দেশটির রাষ্ট্রপতি রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের সন্ধিক্ষণে এই হামলা হলো। ইস্তানবুলের মতো পৃথিবীর যে কোনও বিমানবন্দরে বা শহরে এ ধরনের হামলা হতে পারে।’

এক আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে তিন বন্দুকধারী আতাতুর্ক বিমানবন্দরে ঢোকার মুখে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় এবং কালাশনিকভ রাইফেল দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। এতে অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং আরও ১৪৭ জন আহত হয়েছেন।

হামলার পর পুরো এলাকা বন্ধ করে দেয় সশস্ত্র পুলিশ

এ বছর তুরস্কে বেশ কয়েক দফা বোমা হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ইস্তানবুলের পর্যটন এলাকায় দুই দফা আত্মঘাতী হামলা হয়, যার জন্য আইএসকে দায়ী করা হয়।

সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।

/এসএ/বিএ/