ইস্তানবুলের হামলার নেপথ্যে কারা, খুঁজছে তুরস্ক

আতাতুর্ক বিমানবন্দরে টহল দিচ্ছে পুলিশতুরস্কের ইস্তানবুলে আন্তর্জাতিক আতাতুর্ক বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার জাতীয় শোক পালন করেছে দেশটি। তবে শোক ছাপিয়ে আরেকটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে। আর তাহল-হামলার নেপথ্যে কারা? এ প্রশ্নের সুরাহা এখনও হয়নি। কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীও হামলার দায় স্বীকার করেনি।
অবশ্য এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দিকে সন্দেহের আঙুল তুলেছেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক জন ব্রেনানেরও দাবি, আইএসের স্টাইলে হামলাটি হয়েছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে অভিযানও শুরু করেছে তুর্কি পুলিশ। ইস্তানবুল থেকে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটকও করা হয়েছে। এদিকে তুরস্কের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, হামলাকারীরা বিদেশি হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আটক হওয়াদের মধ্যে তিন জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত আত্মঘাতী হামলাকারীদের ব্যাপারে কোনও তথ্য জানাননি তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার বিকেলে তিন বন্দুকধারী আতাতুর্ক বিমানবন্দরে ঢোকার মুখে কালাশনিকভ রাইফেল দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে এবং আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। পুলিশের পাল্টা গুলির মুখে হামলাকারীরা আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিজেদের উড়িয়ে দেয়। দুই হামলাকারী বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। আর অপর হামলাকারী পার্কিং এলাকায় আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যের এরদোয়ান বুধবার একদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন। এদিন দেশটির জাতীয় পতাকাগুলো অর্ধনমিত অবস্থায় রাখা হয়। এছাড়া নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রয়েছে।

যেভাবে এগুচ্ছে তদন্ত

তুর্কি তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ,প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতি ও আতঙ্কিত ‍যাত্রীদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও পরীক্ষা করে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। ওই তিন বন্দুকধারী একটি ট্যাক্সিতে করে বিমানবন্দরে এসেছিলেন। এরইমধ্যে সে ট্যাক্সি চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে।

ইস্তানবুলের হামলায় নিহতরা
তুর্কি সরকারের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া গেলেও তারা বিদেশি হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্কে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাই যখন তখন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে পারে দেশটি। আবার তুরস্ককে বেছে নেওয়ার পেছনে আইএসেরও কারণ রয়েছে। প্রতিবেশী ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসেবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটকে সহায়তা করে থাকে তুরস্ক। দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকেই এসব অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

হামলার স্টাইল আইএসের ‘বৈশিষ্ট্য বহন’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সিআইএ-র পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এ হামলার মধ্য দিয়ে আইএস আমাদের তুর্কি অংশীদারের কাছে সংকেত পাঠাতে চেয়েছে।’

নিহতদের পরিচয়

নিহতদের মধ্যে ৩৭ জনের জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৪ জন তুর্কি,পাঁচজন সৌদি, দুইজন ইরাকি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া চীন,জর্ডান,তিউনিসিয়া,ইরান ও ইউক্রেইনের একজন করে রয়েছেন। তুরস্কে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন এই হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।

আবারও শুরু ফ্লাইট চলাচল

হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই বুধবার সকাল থেকে বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরে অল্প কয়েকটি দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে টার্মিনালের বেশিরভাগ অংশই খুলে দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন

/এফইউ/বিএ/