সোমবার ৩টি সৌদি শহরে সংঘটিত হামলার প্রথমটি ছিল জেদ্দায়। দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সৌদি শহরে যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেটের কাছে বিস্ফোরণে এক আত্মঘাতী নিহত এবং দুজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, সৌদি আরবে কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম বিদেশিদের লক্ষ্য করে জেদ্দায় এই হামলা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর-জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় মধ্যরাত সোয়া ২টার দিকে ডা. সুলেইমান ফাকিহ হাসপাতালের গাড়ি রাখার স্থানে অবস্থানকারী এক ব্যক্তির ব্যাপারে সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। তারা সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছাকাছি গেলে হাসপাতালের গাড়ি রাখার স্থানে ওই ব্যক্তি নিজের শরীরে বেঁধে রাখা বিস্ফোরক বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটান।
তবে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওই হামলাকারীকে পাকিস্তানি নাগরিক আব্দুল্লাহ কালাজার খান বলে দাবি করা হয়েছে। তারা জানায়, ৩৪ বছর বয়স্ক ওই ব্যক্তি আত্মঘাতী বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। স্ত্রীর সঙ্গে তিনি জেদ্দায় থাকতেন। তার সঙ্গে তার বাবা অথবা মায়ের কেউ একজন থাকত। ১২ বছর আগে তিনি গাড়িচালক হিসবে সৌদি আরবে আসেন।
৪ জুলাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। পাশাপাশি এটি মুসলমানদের পবিত্র মাস। সিএনএন-এর একজন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক বলছেন, পবিত্র মাসে পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অংশ হিসেবে এই হামলা করতে পারে আইএস। মার্কিন কনস্যুলেটের ঠিক উল্টো পাশেই হাসপাতালটির অবস্থান। সে কারণে ওই ঘটনার পর সৌদি আরবে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস হুঁশিয়ারি জারি করে মার্কিন নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণের সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে বলেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৪ সালে জেদ্দার এই কনস্যুলেটে পাঁচ বন্দুকধারী হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় নয়জন নিহত হন। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন
/বিএ/