ভারতীয় মিডিয়ায় 'পাকিস্তানবিরোধী গুজব', জবাব দিলেন ইনু


nonameভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো গুলশান হামলায় পাকিস্তানকে জড়িয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, ইসলামাবাদের এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু বলেন, এ ঘটনায় ভারতীয় মিডিয়ার কোনও দায়দায়িত্ব নেই। তারা নিজেরা এই অভিযোগ করেনি। বরং বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন জেষ্ঠ্য রাজনীতিক এই অভিযোগ তুলেছেন।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভীর মিথ্যে উদ্ধৃতি ব্যবহার করে গুলশান হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাদের দাবি, উপদেষ্টা রিজভীর সঙ্গে কথা বলেই ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যাচার সম্পর্কে জানতে পারে তারা। এ ব্যাপারে কোনও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম অথবা দিল্লি সরকারের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি এখনও।

এদিকে গুগল সার্চ করে তথ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে করা প্রতিবেদনে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও গওহর রিজভীকে উদ্ধৃত করে এ সংক্রান্ত কোনও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। কেবল ভারতীয় মিডিয়া নয়, কোনও মিডিয়াতেই তাকে উদ্ধৃত করে গুলশান হামলায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার প্রতিবেদন প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি গুগল সার্চে। প্রকৃতপক্ষে গুলশান হামলায় পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন এইচ টি ইমাম। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,‘পাকিস্তানের আইএসআই এবং জামায়াতুল মুজাহিদীনের মধ্যকার সংশ্লিষ্টতার কথা ভালো করেই জানা আছে। তারা বর্তমান সরকারকে উৎখাত করতে চায়। জামায়াতুল মুজাহিদীন এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যেভাবে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে থাকে সেরকম করেই আর্টিজানের জিম্মিদের হত্যা করা হয়েছে।’ তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গওহর রিজভীকে উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশের কথা বলছে।পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। নাফিস জাকারিয়া বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। পাকিস্তান এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

এই বাস্তবতায় বুধবার হাসানুল হক ইনু হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘তারা যদি গুলশান হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তো সেটা ভালো কথা। তবে বাংলাদেশের তদন্তকারীরা সব ধরনের সম্ভাব্যতা খুঁজে দেখছে।’ ইনু অভিযোগ করেন, ‘গত ৪৫ বছর ধরে, মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বাংলাদেশের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে পাকিস্তান ও আইএসআই-এর যুক্ত থাকার পরিষ্কার প্রমাণ রয়েছে।’  
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘যদি পাকিস্তান গুলশান হামলায় জড়িত না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিবৃতি গ্রহণ করা হবে। তাদের ধন্যবাদ দেওয়া হবে।’ ইনু সতর্ক করেন, অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে সেটা বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দেশের সম্পর্কে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।  
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসীদের হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।  এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। শনিবার সকালে রেস্টুরেন্টটিতে পরিচালিত কমান্ডো অভিযান শেষে আন্তবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, 'অপারেশন থান্ডার বোল্ট' এর সময় ২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। 
/বিএ/