জাকির নায়েক নিজে এখন উমরাহ করতে সৌদি আরবে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে ঢাকায় গুলশানে নিহত জঙ্গিদের দুজন-রোহান ইমতিয়াজ এবং নিবরাস ইসলাম জাকির নায়েককে অনুসরণ করত। রোহান গত বছর জাকির নায়েকের পিস টিভির একটি অনুষ্ঠান তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিল। পোস্টে সে জাকির নায়েককে উদ্ধৃত করে লিখেছিল যে ‘প্রত্যেক মুসলিমেরই সন্ত্রাসবাদী হয়ে ওঠা উচিত।’ তাই গুলশানের হামলাকারীরা জাকিরের বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়েছিল কি না, বাংলাদেশের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তা তদন্ত করে দেখার কথা জানায় ভারত। বুধবার প্রকাশিত খবরে তখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ না পাওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে উদ্ধুব্ধকরণের ভয়াবহ অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দাবি করেছেন, আইন বিশেষজ্ঞরা জাকিরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে। জঙ্গিবাদে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ইনু।
এর আগে একই সুর প্রতিধ্বনিত হয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কণ্ঠেও। দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাকির নাইকের বক্তৃতা আমাদের কাছে একটা উদ্বেগের বিষয়। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।’ জাকির নাইকের কী ধরনের বক্তব্য হেট-স্পিচের আওতায় পড়তে পারে বা প্রমাণ পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে তা পরিষ্কার করেননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি পার্লামেন্টের বাইরে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজুও বলেছেন, "সন্ত্রাসবাদ রোখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা বরাবরই বাংলাদেশের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছি। এ ব্যাপারে দুই দেশের বোঝাপড়া ও সুসম্পর্কও দারুণ।"
বাংলাদেশ সরকার চাইলে ভারত সে দেশে জাকির নাইকের পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করার কথাও বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন কিরেন রিজিজু। পরবর্তীতে হাসানুল হক ইনু বাংলাদেশ ভারতকে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করবে।
এনআইএ-এর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার জন্য থেমে নেই ভারত। এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বিাচরবিশ্লেষণ শেষে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে। কিরেন রিজুজু বলেন, ‘কোনও বক্তৃতায় তিনি জিহাদের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে উদ্বুদ্ধ করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আইএস-এর মতো নিষিদ্ধ কোনও সংগঠনকে সহায়তা দিচ্ছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।‘ কিরেন জানান, সবই নির্ভর করছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার ওপর। তা পেলেই আদালতে মামলা দেওয়া হবে।
/বিএ/