ন্যাটো সম্মেলনের জন্য পোল্যান্ডে অবস্থান করছেন ওবামা। তিনি বলেছেন, এটি ‘ঘৃণ্য, পরিকল্পিত ও বিদ্বেষপূর্ণ’ একটি হামলা। নির্বিচারি কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রেক্ষাপটে পুলিশের ওপর সংঘটিত এই হামলাকে বিদ্বেষের ফলাফল বললেও তিনি বলেছেন, কোনও অর্থেই এ ধরনের হামলার বৈধতা দেওয়া যায় না।
এদিকে ডালাসের ঘটনায় নিহত পুলিশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ জনে। পুলিশের কৃষ্ণাঙ্গবিরোধী মনোভাবের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ মিছিল চলার সময় সংঘটিত ওই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ৬ পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় এরইমধ্যে তিন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নেওয়া হয়েছে। গ্যারেজে লুকিয়ে থাকা আরেক সন্দেহভাজন আত্মহত্যা করেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ডালাস শহরে কৃষ্ণাঙ্গদের বিক্ষোভ শুরুর পর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায় স্নাইপার রাইফেলধারীরা। এ সময় মিছিলকারীদের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। ডালাস পুলিশের প্রধান ডেভিড ব্রাউন জানান, গাড়ি পার্কিং এলাকায় লুকিয়ে থেকে এক সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে দূর থেকে আলোচনার মধ্য দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চালায় পুলিশ। ব্রাউন জানান, আলোচনা চলার সময় ওই সন্দেহভাজন আরও হামলার হুমকি দেয়। গ্যারেজের সব জায়গায় বোমা আছে বলেও সতর্ক। বলতে থাকে সমাপ্তি এগিয়ে আসছে।’ পরে ওই ব্যক্তি নিজেই নিজেকে গুলি করেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বিবিসি।
এর আগে এক সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করে ডালাস পুলিশ। ওই সন্দেহভাজনকে খুঁজতে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। টুইটারে প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যায়, এক আফ্রিকান-আমেরিকান ব্যক্তি রাইফেল নিয়ে হাঁটছেন। তিনি টি-শার্ট পরিহিত। পরে অবশ্য ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে গত মঙ্গল ও বুধবার পরপর দুইদিনে পুলিশের হাতে খুন হন দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ। এতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতিবাদ-মিছিল চলার সময় টেক্সাসে আক্রান্ত হলো পুলিশ।
/এফইউ/বিএ/