স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ডালাস শহরে কৃষ্ণাঙ্গদের বিক্ষোভ শুরুর পর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর স্নাইপার রাইফেল থেকে গুলি চালানো হয়। ডালাস পুলিশের প্রধান ডেভিড ব্রাউন জানান, গাড়ি পার্কিং এলাকায় লুকিয়ে থেকে এক সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে দূর থেকে আলোচনার মধ্য দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চালায় পুলিশ। তখন মিকাহ জনসন নামের ২৫ বছর বয়সী ওই বন্দুকধারী জানান, তিনি শ্বেতাঙ্গ পুলিশদের হত্যা করতে চান। কারণ তিনি শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। জনসন এও দাবি করেছিলেন, তিনি কোনও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন, একাই হামলায় অংশ নিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর খবর অনুযায়ী, ‘ডালাস পুলিশের বোমা স্কোয়াড রোবট জনসনকে হত্যা করে’।
কে এই মিকাহ জনসন?
তদন্তকারীরা জানান, জনসন টেক্সাসের অধিবাসী। তিনি সাবেক সেনা সদস্য। আফগানিস্তানে কাজ করেছেন তিনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনসনের অপরাধের কোনও ইতিহাস নেই। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডালাসের মেয়র বলেন ‘কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে জনসন একাই হামলা চালিয়েছে। আমরা মনে করি শহর এখন নিরাপদ আছে।’
পরে মিকাহ জনসনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধারের কথা জানায় ডালাস পুলিশ। মেসকুয়িট এলাকার ওই বাড়িতে মাকে নিয়ে থাকতেন জনসন। পুলিশ জানিয়েছে ওই বাড়ি থেকে গোলাবারুদ এবং যুদ্ধকৌশল সংক্রান্ত একটি সাময়িকী উদ্ধার করা হয়েছে। সাময়িকীতে থাকা তথ্যগুলো পর্যালোচনা করছেন তদন্তকারীরা।
অন্তত দুটি অস্ত্র ছিল জনসনের সঙ্গে
আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর দুই কর্মকর্তার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে, ডালাসের বন্দুকধারীর কাছে অন্তত দুটি অস্ত্র ছিল। এর একটি হ্যান্ড গান এবং আরেকটি রাইফেল।
ডালাস পুলিশের তদন্তের ব্যাপারে জানাশোনা রয়েছে এমন এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, বড় বন্দুকটি হলো রাশিয়ার নকশায় তৈরি আধা-স্বয়ংক্রিয় সামরিক স্টাইলের রাইফেল। অন্য এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, জনসন অতীতে বৈধভাবে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিলেন। উল্লেখ্য, টেক্সাসে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে গত মঙ্গল ও বুধবার পরপর দুইদিনে পুলিশের হাতে খুন হন দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ। এতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতিবাদ-মিছিল চলার সময় টেক্সাসে আক্রান্ত হলো পুলিশ। এদিকে টেক্সাসের সহিংসতার পরও কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জর্জিয়ার আটলান্টায় লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
টেক্সাসের হামলা ছাড়াও বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতেও একটি মোটরওয়েতে বন্দুকধারীর হামলা হয়েছে। এক কৃষ্ণাঙ্গ সেনাসদস্যের হামলায় এক নারী নিহত হন। পরে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তিনি জানান, আফ্রিকান-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে পুলিশি সহিংসতায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ হামলা চালিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন
/এফইউ/বিএ/