তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টার কারণে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ব্যাহত হতে পারে। অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে ফেলায় হুমকিতে পড়তে পারেম ধ্যপ্রাচ্যকে আইএসমুক্ত করার লক্ষ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের কাছে রাজনীতি বিশ্লেষকরা এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে তুর্কি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তাবাহিনী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ইস্তানবুল ও রাজধানী আঙ্কারায় বন্দুকযুদ্ধ ও বিস্ফোরণ ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলে এরদোয়ানের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানান। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিতে সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ‘তুরস্কের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’ তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাভলুত কাভুসোগলুকে টেলিফোনে জানান, ওয়াশিংটন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ‘সর্বাত্মক সহায়তা’ দেবে। সামরিক জোট ন্যাটোর পক্ষ থেকেও একই ধরনের অঙ্গীকার করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যেতে পারে।এতে তুর্কি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তাবাহিনী সিরিয়া সীমান্তে বিদেশি সন্ত্রাসীদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যে দায়িত্ব পালন করে আসছিলো তা ব্যাহত হবে।
আরও পড়ুন: ইস্তাম্বুলে ফিরলেন এরদোয়ান, অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি
বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের পরিচালক ব্লেইজ মিস্তাল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে দেখতে গেলে, একটি সফল অভ্যুত্থান তুরস্ককে একটি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ফেলতে পারে। এমনকি দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো একটি অভ্যুত্থানও হতে পারে অস্থিরতার কারণ, তবে একপেশে ও ব্যর্থ অভ্যুত্থান আরও বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।’
তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে। ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তুরস্কের রয়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তর সেনাবাহিনী এবং ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় অর্থনীতিও। তুরস্কের ইতিহাসে সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা থাকলেও ৭৫ মিলিয়ন সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক ও ব্রুকিংস ইন্সটিটিউটের সদস্য ব্রুস রিডেল বলেন, ‘এটা ওবামা প্রশাসনের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই স্থিতিশীল তুরস্ক প্রয়োজন।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনা সহায়তার পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে তুরস্ক।তুরস্ক স্থাপিত ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে থাকে।এ ছাড়াও সিআইএর এক ঘাঁটি থেকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়া হয়।
আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইসলামিক স্টেট বিরোধী কোয়ালিশনেো যোগ দেওয়ার কথা ছিল তুরস্কের। এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা তুরস্কের অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্র এরদোয়ানের ক্রমবর্ধমান সৈরতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর সমালোচনা করে আসছিলেন। এ ছাড়াও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইসলামপন্থীদের সমর্থন দানের জন্যও সমালোচিত হন এরদোয়ান।
মিডল ইস্ট ইন্সটিটিউটের সেন্টার ফোর টার্কিশ স্টাডিজের পরিচালক গনুল তোল বলেন, ‘অভ্যুত্থানের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এর প্রভাব পড়বেই।অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে এরদোয়ানের হাত আরও শক্ত হবে, আমরা তার কর্তৃত্বের চেহারা আরও ভালোমত দেখতে পাবো। আর অভ্যুত্থান সফল হলে তুরস্ক আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।’
সূত্র: রয়টার্স
/ইউআর/বিএ/