ইসরায়েলে নিযুক্ত আট ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ভঙ্গ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। পশ্চিম তীরে বেদুইনদের আশ্রয় অধিগ্রহণ করার সমালোচনা করে লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা।
এ মাসের শুরুতে মেজর জেনারেল ইয়োভ মোরদেচাই বরাবর ওই চিঠিটি পাঠানো হয়। গত মে ও জুন মাসে সংঘটিত দুটি ঘটনায় জানা যায়, ইইউ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বেদুইনদের আশ্রয়স্থল দখল করেছে সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলে নিযুক্ত স্পেন, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইডেন, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতরা ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
এর মধ্যে প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৬ মে জাবাল আল বাবা গোষ্ঠীর ১০টি আবাসিক কাফেলাসহ ৪৯ জনকে স্থানচ্যুত করা হয়।
এর পর সাতেহ এল বাহির গোষ্ঠীর সাতটি কাফেলায় বসবাসরত ছয়টি পরিবারের ২৬ জনকে স্থানচ্যুত করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি কাফেলা ছিল আবাসিক ও অপরটি শিশুদের বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
আরও পড়ুন: চীন সীমান্তে ভারতের ১০০ ট্যাংক মোতায়েন, বাড়বে সেনা উপস্থিতিও!
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই অঞ্চলে অন্তত ৭ হাজার ফিলিস্তিনি বেদুইন বসবাস করে যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু। জাতিসংঘের ২০১৪ সালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকেই উচ্ছেদ করা হচ্ছে এই বেদুইনদের।
চিঠিতে বলা হয়, ‘ওই দুই গোষ্ঠীর মানুষরা পশ্চিম উপকূলের জনগণের মধ্যে সবচেয়ে প্রান্তিক।এই অধিগ্রহণ এবং পূর্ববর্তী উচ্ছেদের ফলে তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে ও পরিস্থিতির চাপে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের উচ্ছেদ করায় মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘জাতিসংঘ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইসরায়েল অধীনস্থ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে বাধ্য।’
তবে এই চিঠির কোন আনুষ্ঠানিক জবাব বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে ওই আট রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় সূত্র।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েল ওই অঞ্চলে বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতিও দেয়নি।
সূত্র: গার্ডিয়ান
/ইউআর/