'আমাক'-এ আইএস-এর দায় স্বীকারের খবর

কাবুলে সংখ্যালঘুদের গণবিক্ষোভে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৬১, আহত দুই শতাধিক

nonameআফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে ৬১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০৭ জন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলাজজিরার খবরে হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইএস-এর দায় স্বীকারের খবর দিয়েছে আইএস-সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হিসেবে পরিচিত আমাক।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার কাবুলের ডেমাজাং সার্কেলের কাছে এ ঘটনা ঘটে। খবরে বলা হয়, শনিবার একটি বিদ্যুৎ সংযোগের গতিপথ পরির্বতনের জন্য দেশটির শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। এ সময় একজন আত্মঘাতী ওই বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের শিয়া হাজারা সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বামিয়ান এলাকায় তাদের আবাস। ভয়াবহ পিছিয়ে থাকা এই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। সঙ্গে রয়েছে তালেবানের দৌরাত্ম্য। সেখানকার শিয়া সম্প্রদায়ের দাবি, ব্যয়বহুল একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাওয়ারলাইন তাদের এলাকা দিয়ে পাঠাতে হবে। যেন তারা বিদ্যুতের মুখ দেখার সুযোগ পান। তবে ওই বিদ্যুৎ লাইন বামিয়ান হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও আফগানিস্তান সরকার তা বামিয়ানের বদলে উত্তর কাবুলের পাহাড়ি সালাং পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের যুক্তি, এর ফলে রাস্তা কম হওয়ায় প্রকল্পের কাজ যেমন দ্রুত হবে,তেমনই বাঁচবে কয়েক মিলিয়ন ডলার। কিন্তু হাজারারা তা মানতে রাজি হননি। বিদ্যুতের দাবিতে শনিবার কাবুলে এসে তারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আর সেই মিছিলেই ঘটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
আইএস-সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হিসেবে পরিচিত ‘আমাক’ খবর দিয়েছে, এ হামলায় এ দায় স্বীকার করেছে সিরিয়া ও ইরাক ভিত্তিক ইসলামিক স্টেট ( আইএস)। আমাক দাবি করেছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দুই সদস্য শরীরে আত্মঘাতী বোমা নিয়ে শিয়াদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিযেছে। অবশ্য প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। যাতে বেশ কয়েকজন নিহত হন। সেই হামলার দায়স্বীকার করে তালেবান। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা

/বিএ/